তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন, সংখ্যালঘুদের বড় দায়িত্ব—বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভায় কারা আসতে পারেন?

বিএনপি-র নয়া সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় প্রবীণ-তরুণ ভারসাম্য, সংখ্যালঘু ও মহিলাদের বড় দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দলীয় সূত্রে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বহু বছর পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি কেমন মন্ত্রিসভা গড়তে চলেছে? তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সম্ভাব্য মুখ নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত—অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি জায়গা পেতে পারেন তরুণ মুখ, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে থাকতে পারেন সংখ্যালঘু প্রতিনিধিরাও। রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এই বার্তাই কি দিতে চাইছে নতুন সরকার?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফিরেছে। নয়া প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ নিয়ে নতুন সরকার গঠন হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন। তবে সবথেকে বড় প্রশ্ন—নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন?

দলীয় সূত্রের দাবি, বয়সের ভারে জর্জরিত কয়েক জন প্রবীণ নেতাকে এ বার হয়তো মন্ত্রিসভায় দেখা যাবে না। তার বদলে তরুণ ও মধ্য প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছে দল। একই সঙ্গে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে। খালেদা জিয়ার জানাজায় দলের হয়ে বক্তব্য রাখা এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা—দুই মিলিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলেই ধারণা।

এছাড়াও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম ঘুরছে আলোচনায়। নতুন মুখ হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহিদ হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়ালের নামও শোনা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম—বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টাও চলছে। মহিলাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভারসাম্য রেখে একটি ‘ইনক্লুসিভ’ মন্ত্রিসভা গড়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—স্থিরতা, বহুত্ববাদ এবং প্রশাসনিক দক্ষতার মিশ্রণই হবে নতুন সরকারের ভিত্তি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত