বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল। গাজীপুরের কালিগঞ্জে সামান্য বচসা থেকে মারধরের ঘটনায় প্রাণ গেল এক হিন্দু ব্যবসায়ীর। নিহতের নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ (৬০)। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দোকানের কর্মীকে রক্ষা করতে এগোতেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়; বেলচা দিয়ে মাথায় আঘাতের পর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বেলা আনুমানিক ১১টা নাগাদ, বড়নগর সড়কের পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায়, কালিগঞ্জ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’-এ তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এক ক্রেতা মাসুম মিয়ার সঙ্গে দোকানকর্মী অনন্ত দাশ (১৭)-এর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়।


খবর পেয়ে মাসুমের বাবা মোহাম্মদ স্বপন মিয়া ও মা মাজেদা খাতুন ঘটনাস্থলে আসেন এবং সংঘর্ষ আরও ছড়ায়। এই সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান দোকানের মালিক লিটন ঘোষ। অভিযোগ, তখনই তাঁকে মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে বেলচা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
নিহত লিটন চন্দ্র ঘোষ চান্দাইয়া এলাকার নির্মল চন্দ্র ঘোষের ছেলে। এলাকায় তিনি সুপরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা তিন জনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এলাকায় শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, “প্রাথমিক তদন্ত চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।” আটক তিন জনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।


উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কথা শোনা যাচ্ছে। এই ঘটনাও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে আনল বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।







