নজরবন্দি ব্যুরো: বাগুইআটিতে ২ কিশোরকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় বাগুইআটি থানার ওসিকে ক্লোজ করল রাজ্য প্রশাসন। এবং এই ঘটনার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাগুইআটিতে ২ কিশোররে মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যে খবর উঠে এসেছে তা হল, পুরনো আক্রোশের জেরেই খুন হতে হয়েছে অতনু ও অভিষেককে। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরীর স্ত্রী পূজার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল অতনুর।
আরও পড়ুন: ওসি কল্লোল ঘোষকে ক্লোজ করা হয়েছে, বাগুইআটির ঘটনায় তদন্তে নামল সিআইডি
পরে অতনুর ভাই অভিষেকের সঙ্গেও সেই মহিলার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এই নিয়েই সত্যেন্দ্রর সঙ্গে বাগুইআটির দুই কিশোরের শত্রুতা তৈরি হয় বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। জানা গেছে, অতনু আর অভিষেকের অনলাইনে গেম খেলার প্রতি আসক্তি ছিল। গেম খেলেই ৫০ হাজার টাকা জেতে দুই কিশোর। সেই টাকা দিয়েই সেকেন্ড হ্যান্ড হাইস্পিড স্পোর্টস বাইক কেনার পরিকল্পনা করে।

পুলিশ জানা গেছে, এই গেম খেলতে গিয়েই বাগুইআটি সতেন্দ্র কাছে অনেক টাকা দেনা হয়ে যায় এই দুই কিশোরের। একদিকে স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আর টাকা ফেরত না দেওয়া, ২ কিশোরের সঙ্গে তিক্ততা বাড়ে সত্যেন্দ্রর। তাই মনে করা হচ্ছে সেই তিক্ততার জেরেই পরিকল্পনা মাফিক আই দুই কিশোরকে খুন করে সতেন্দ্র। এই ঘটনায় অতনুর বাবা জানান, “পুলিশ করছি… করব… বলতে গেলে বলছে, সব কথা তো আপনাদের বলব না। এই সব বলছে। আমরা চাইছি, ছেলেটার যেন ফাঁসি হয়। আমরা সিবিআই তদন্ত চাইছি।”
বাগুইআটি কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য, সত্যেন্দ্রর স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল অতনু-অভিষেকের

ইতিমধ্যে ফিরহাদ হাকিম জানান, “মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করেছেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পরিবারের পাশে আমরা আছি। এর তদন্তভার সিআইডি-র হাতে দেওয়া হল।” এই মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।



