বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ইতিহাস লিখলেন লিয়োনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে শুধু আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলোয় তোলাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও এককভাবে শীর্ষে উঠে এলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে হারাল অস্ট্রিয়াকে।
লিয়োনেল স্কালোনির দল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে নামে। ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হলে VAR-এর সাহায্যে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট-কিকে গোল করার দায়িত্ব নেন মেসি।
তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। মেসির নেওয়া শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার। বিশ্বরেকর্ডের অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের হতাশ হতে হয় সেখানেই।
এরপর ১৯ মিনিটেও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। প্রায় একা গোলরক্ষকের সামনে পৌঁছে গেলেও শ্লেগারের শরীরে বল মেরে বসেন তিনি। আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক আক্রমণের মধ্যেও অস্ট্রিয়াও পাল্টা লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে।
মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও লিয়োর

প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশেষে আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ৩৮ মিনিটে থিয়াগো আলমাডার তৈরি করা আক্রমণ থেকে মেদিনার ক্রস পেয়ে দুরন্ত ফিনিশে গোল করেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৭-তে।
এই গোলের মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়েকেও পিছনে ফেলে দেন। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন শুধুই মেসি-ম্যাজিকের উচ্ছ্বাস।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। স্কালোনি একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। নিকোলাস গঞ্জালেজ় এবং ইউলিয়ান আলভারেজ়কে নামিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ানো হয়।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও সহজে হার মানেনি। তাদের রক্ষণভাগ বেশ সংগঠিত ছিল। বক্সের মধ্যে জায়গা তৈরি করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের। বেশ কয়েকবার ভালো আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।
ম্যাচ যখন শেষের পথে, তখনই আবার সামনে আসেন মেসি। সংযুক্ত সময়ে ইউলিয়ান আলভারেজ়ের শট শ্লেগার প্রথমে রুখে দিলেও ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে জালে বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার জয় এবং নকআউট পর্বের টিকিট।
শেষ মুহূর্তে ফ্রিকিক থেকে হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন মেসি। তবে তাঁর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তাতে অবশ্য কোনও আক্ষেপ নেই আর্জেন্টিনা শিবিরে। কারণ দলের জয়, নকআউটে ওঠা এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড—সবটাই একসঙ্গে এনে দিলেন লিয়োনেল মেসি।



