‘দিদির সঙ্গেই আছি’, তৃণমূলের ভাঙনের মাঝেই স্পষ্ট বার্তা বাবুলের, বিদ্রোহীদের ছুড়লেন চ্যালেঞ্জ

তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে মুখ খুললেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বিদ্রোহী নেতাদের পদত্যাগ করে ফের জনসমর্থন প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানালেন, আপাতত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসে চলতে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও একের পর এক নেতার দলবদলের আবহে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বাবুল সুপ্রিয়। এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর খারাপ লাগছে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। একইসঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, যদি তাঁরা নিজেদের জনসমর্থনের বিষয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী হন, তাহলে আগে সাংসদ বা বিধায়কের পদ ছেড়ে ফের ভোটের ময়দানে নামুন।

সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়েছে। একাধিক নেতা ও সাংসদ দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। দলের ভেতরে পৃথক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। এই আবহেই বাবুল সুপ্রিয় বলেন, যাঁদের উপর দলীয় নেতৃত্ব আস্থা রেখেছিল, তাঁদের অনেকেই এখন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কথায়, এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই দলের জন্য এবং বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বেদনাদায়ক।

বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধুমাত্র দাবি করলেই হবে না যে তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল। যদি সেই বিশ্বাস সত্যিই থাকে, তাহলে নির্বাচিত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আবার মানুষের রায় নেওয়া উচিত। জনগণের সমর্থন থাকলে তাঁরা ফের নির্বাচিত হবেন বলেও মন্তব্য করেন বাবুল।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও এদিন মুখ খোলেন তিনি। বাবুল সুপ্রিয় বলেন, এই মুহূর্তে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন এবং রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মানুষের স্বার্থের বিষয়গুলি সংসদে তুলে ধরতে চান। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চান না। তাঁর কথায়, আগামী কয়েক বছর শান্তিপূর্ণভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করাই তাঁর লক্ষ্য এবং দলনেত্রী যা নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী কাজ করবেন।

একই সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজ্য সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন বাবুল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যদি সরকার সত্যিই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া প্রয়োজন।

তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েনের মধ্যেই বাবুল সুপ্রিয়র এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। তবে তিনি আপাতত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন এবং সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনেই মন দিতে চান।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন