মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ ঘিরে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, মামলাটির কোনও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নেই।
আদালতে মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন, যা আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী। তবে সেই যুক্তি মানতে নারাজ উচ্চ আদালত।



আদালতের পর্যবেক্ষণ
ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, যে জমিতে মসজিদ নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, সেটি কোনও সরকারি জমি নয়, বরং একটি ট্রাস্টের মালিকানাধীন জমি। ফলে সরকারি জমি দখল বা অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ এখানে খাটে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “সরকারি জমিতে নির্মাণ হচ্ছে না—এই অবস্থায় এই ধরনের জনস্বার্থ মামলার কোনও ভিত্তি নেই।”
বিচারপতিরা আরও জানান, মামলাটি আইনি দিক থেকেও ত্রুটিপূর্ণ। সেই কারণেই আদালত এই সংক্রান্ত কোনও আবেদন বিবেচনায় নিতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়ে দেয় বেঞ্চ।
কী নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক
উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় একই নামে একটি মসজিদের শিলান্যাস করেন হুমায়ুন কবীর। সেই ঘোষণা সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়। ঘটনার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুনের সঙ্গে প্রকাশ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে।


মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছিল, এই উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
আগেও হস্তক্ষেপ করেনি আদালত
এই মামলার আগের শুনানিতেও হাই কোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি। সেবার আদালত জানিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখেই কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে, এবং রাজ্য সরকারকে সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এ বার চূড়ান্ত শুনানিতে এসে আদালত স্পষ্ট করে দিল, এই মামলার আর কোনও আইনি ভিত্তি নেই, ফলে জনস্বার্থ মামলা খারিজ করা হল।








