নজরবন্দি ব্যুরোঃ যা টাকা সবটা গেছে গোপাল দলপতি এবং তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ রহস্যময়ী নারী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষের কাছ থেকে বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। এরপর থেকেই হৈমন্তীর বাড়ির এলাকায় সাড়া পড়ে গেছে। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের কর্মকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নিয়োগ দুর্নীতির আসল কালপ্রিট কে? জানালেন গোপাল


পরিবারের তরফে হৈমন্তীর সঙ্গে যোগাযোগ অস্বীকার করা হলেও স্থানীয়রা অন্য বক্তব্য পেশ করছেন। হৈমন্তীকে নিয়ে সাড়া পড়ে গেছে হাওড়ার বাকসাড়ায়।নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্তে জালের মতো বিছিয়ে থাকা একাধিক জনকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হুগলীর বলাগড়ের তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ।

কুন্তলের কাছ থেকেই গোপাল দলপতি ও তাঁর স্ত্রী হৈমন্তীর নাম পাওয়া গেছে। যা ঘিরে তোলপাড় হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি৷ জানা গেছে, হাওড়ার বাকসাড়া রোডে হৈমন্তীর বাপের বাড়ি। এই ঠিকানাতেই থাকে হৈমন্তীর পরিবার। পরিবারে রয়েছেন হৈমন্তীর বাবা-মা-ছোট বোন। প্রেম করে গোপালের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। কিন্তু এখন কয়েকদিন ধরেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ নেই।
অপর দিকে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের দাবি, হৈমন্তীর কাছে টাকা রয়েছে। টলিগঞ্জেও ফ্ল্যাট রয়েছে হৈমন্তীর, তবে কী আরও এক অর্পিতার পর্দাফাঁস হতে চলেছে? একইসঙ্গে হৈমন্তীর টালিগঞ্জের একটি ফ্ল্যাটের হদিশ মিলেছে। এছারাও বেহালা মুচিপাড়া মোড় ৩৫৯ রাজা রামমোহন রায় রোডে দোতলার ফ্ল্যাবটে থাকতেন হৈমন্তী ও গোপাল দলপতি ওরফে আরমান। যদিও এলাকায় তিনি ‘গোপালদা’ নামে পরিচিত ছিলেন।



জানুয়ারিতেই গোপালকে শেষবারের মতো বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। হৈমন্তীকেও দেখা যাচ্ছিল না। তবে হৈমন্তীর নাইট লাইফ নিয়ে বিরক্ত ছিল তার প্রতিবেশীরা। কারন রাত বাড়লেই ফ্ল্যাটে চলত ফুর্তির ফোয়ারা। আনাগোনা শুরু রহস্যময় নারী ও পুরুষের। অভিনেত্রী তথা মডেল হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে সারারাত ধরে চলত পার্টি। আবার কখনও ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে বাইরে ছুঁড়ে ফেলা হতো আবর্জনাও।
তার প্রতিবেশীদের কথায়, গোপাল ও হৈমন্তী দু’জনে স্বামী-স্ত্রী বলে জানতাম। গোপাল নিজেকে সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি আর পঁাচটা সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করতেন। কিন্তু হৈমন্তীর জীবনযাত্রা একেবারে ভিন্ন ছিল। তিনি কী করতেন কোথায় যেতেন কেউ কিছুই জানতেন না। তবে তঁার চলাফেরা দেখে সন্দেহ হত। তঁার সাজপোশাকও ছিল একটু অন্যরকমের। স্বল্প পোশাকে বেশিরভাগ সময় তঁাকে দেখা যেত।
হৈমন্তীকে নিয়ে বাড়ছে রহস্য, রাত হলেই ফ্ল্যাটে উদ্দাম পার্টি, আসতেন রহস্যময় নারী পুরুষ

এমনি সময় খুব একটা বাইরে বের হতেন না। অনেক সময় দেখতাম, তঁাকে নিতে অনেক দামি গাড়ি আসত। স্বল্প পোশাক পরে গাড়িতে উঠে পড়তেন তিনি। শুধু তাই নয়, রাত হলে তঁার ফ্ল্যাবটে একাধিক মহিলা আসতেন। তঁাদের সাজ পোশাক ও ব্যকবহার রহস্য জনক লাগত। এছাড়াও কিছু বহিরাগতর আনাগোনাও ছিল।







