যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠালেন অরূপ বিশ্বাস।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন অরূপ। কুণালের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সেই পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে নবান্নের তরফে এখনও কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।


অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের মন্ত্রী। তবে তাঁর ইস্তফা কেবলমাত্র ক্রীড়া দফতর থেকেই। ফলে মন্ত্রিসভায় তিনি থাকছেন, বিদ্যুৎ দফতরের দায়িত্ব আগের মতোই বহাল থাকবে।
যুবভারতীকাণ্ডে ইস্তফা দিলেন অরূপ বিশ্বাস, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে চিঠি ক্রীড়ামন্ত্রীর

মঙ্গলবার তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে অরূপের ইস্তফাপত্র প্রকাশ্যে আনেন। চিঠিটির উপরে ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখ উল্লেখ রয়েছে। যদিও চিঠিতে অরূপ বিশ্বাসের স্বাক্ষর নেই। তবে টালিগঞ্জের অরূপ-ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতার দাবি, চিঠির হাতের লেখা মন্ত্রীরই।
অরূপের ইস্তফার খবরে নবান্নে তৎপরতা বেড়েছে। ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরেই তাঁরা নবান্নে পৌঁছন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।


শনিবার যুবভারতী কেলেঙ্কারির পর থেকেই ক্রীড়া দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। যদিও ইস্তফা নিয়ে অরূপ নিজে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে অনুমান ছিল, মঙ্গলবার এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে বিষয়টি গুরুত্ব হারাতে পারে। কিন্তু তার আগেই ইস্তফার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে চমক তৈরি করেছে।
কুণাল ঘোষ বলেন, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং রাজধর্ম পালন করেছেন। নজিরবিহীনভাবে দু’টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন—একটি পুলিশি তদন্ত, অন্যটি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটির তদন্ত। ডিজিকেও শো কজ় করা হয়েছে। তদন্ত যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে হয়, সেই কারণেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা চেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।”
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, যুবভারতীর ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের গাফিলতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।







