যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনায় একের পর এক কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়তেই রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে জবাবদিহির প্রক্রিয়া শুরু হল।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে শো কজ় নোটিস জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে শো কজ় করা হয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার এবং ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকেও। শনিবারের অনুষ্ঠানে কেন এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তা কেন সামাল দেওয়া গেল না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।


প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, পুলিশের ভূমিকা এবং নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও পৃথক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের। একই সঙ্গে বিধাননগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) অনীশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সিইও তথা অবসরপ্রাপ্ত ডব্লিউবিসিএস অফিসার দেবকুমার নন্দনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির মতে, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা ও স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে গতি আনতে চারজন সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই SIT-এ রয়েছেন আইপিএস পীযূষ পাণ্ডে, জাভেদ শামিম, সুপ্রতীম সরকার এবং মুরলীধর। তাঁরা গোটা ঘটনার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় খতিয়ে দেখবেন।


উল্লেখ্য, গত শনিবার যুবভারতীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসি। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে মাত্র ২০–২৩ মিনিটের মধ্যেই তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনদের ভিড়ে সাধারণ দর্শকরা মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও হতাশ হয়ে ফেরেন বহু মানুষ।
পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ। এই ঘটনার পরই রাজ্য সরকারের তরফে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীরাও ছিলেন।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর নবান্নের এই দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।







