লোকসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই রবিবার ব্রিগেডে জনগর্জন সভার মঞ্চ থেকেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক পুরনো সাংসদদের নাম যেমন রয়েছে পাশাপাশি নতুন মুখ এনেও চমক দিয়েছে শাসক শিবির। গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় ছিল ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র। অর্জুন সিংকে ফের টিকিট দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে জল্পনা ছিল। এদিন তালিকা প্রকাশ হলে সবটা পরিষ্কার হয়ে যায়। আসন্ন নির্বাচনে লড়াই করার সুযোগ নেই অর্জুন সিংয়ের।

আরও পড়ুন: দুই ভূমিপুত্রের লড়াই, বালুরঘাটে মুখোমুখি সুকান্ত-বিপ্লব!
এদিন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ৪২ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেন। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র (Barrackpore Loksabha Constituency) থেকে আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রার্থী করা হয়েছে নৈহাটির বিধায়ক তথা রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিককে (Partha Bhowmick)। অর্জুন সিংকে টিকিট না দেওয়ার খবর যে জল্পনা শুরু হয়েছিল, শেষপর্যন্ত ঠিক তাই হল। অর্জুন সিং বর্তমানে ব্যারাকপুরের সাংসদ। তৃণমূলে যোগ দিলেও খাতায় কলমে তিনি এখনও বিজেপির সাংসদ। ২০১৯ সালে তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদীকে হারিয়ে জয় পেয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং।

বিগত কিছু সময় ধরে ব্যারাকপুরে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল। অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন তৃণমূলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। এমনকি তাঁকে যেন লোকসভায় টিকিট দেওয়া না হয় সেই দাবিও করেছিলেন জগদ্দলের বিধায়ক। তিনি আরও বলেছিলেন, অর্জুন সিংয়ের জন্য দলীয় নেতৃত্বকেও ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী, মন্ত্রী পার্থ ভৌমিকের কাছেও চিঠি এসেছে বলে খবর।
লোকসভার লড়াইয়ে নেই অর্জুন, তৃণমূলে টিকিট না পেয়ে ফের দলবদলের ভাবনা সাংসদের!

উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে পরপর চারবার ভাটপাড়ার তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন অর্জুন সিং। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। বিজেপির টিকিটে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অর্জুন। ২০২২ সালের মে মাসে ফের ‘ঘরওয়াপসি’ করে তৃণমূলে ফিরে আসেন। কিন্তু খাতায় কলমে এখনও তিনি বিজেপির সাংসদ। এবার নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, টিকিট না পেয়ে কি তবে আবারও দলবদল করতে পারেন অর্জুন সিং। কী ঘটবে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।








