বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে দুই ভূমিপুত্রের লড়াই! তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গেল বড় চমক। প্রথমে অনুমান করা হচ্ছিল, প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিকিট দিতে পারে ঘাসফুল শিবির। এক্ষেত্রে কিন্তু তা হল না। প্রসূনকে টিকিট দিল তৃণমূল, কিন্তু মালদহ উত্তর কেন্দ্রে। বরং বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বিপক্ষে ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রকে প্রার্থী করে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল তৃণমূল।
আরও পড়ুন: বহরমপুরে অধীরকে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের, ঘাসফুল প্রার্থী ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান!
বালুরঘাটের চরিত্র বরাবর বিপরীতমুখী। ২০১১ সালের বিধানসভায় যেবার প্রথম বিধানসভা জিতে রাজ্যের ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেবার নিজের কেন্দ্র হরিরামপুর থেকে ঘাসফুল প্রতীকে জয় পেয়ে বিধায়ক হন বিপ্লব মিত্র। কিন্তু এরপরই আবার ২০১৬ সালে সিপিআইএমের রফিকুল ইসলামের কাছে হেরে বসেন তিনি। একুশের বিধানসভায় সবাইকে ছাপিয়ে উঠে আসেন বিপ্লব। বিধায়ক হন আবার হরিরামপুরের। মাঝে উনিশ সালেই আবার বিজেপিতে যোগ দেন বিপ্লব। অর্পিতা ঘোষকে টিকিট দেওয়ায় ‘অখুশি’ হন তিনি, এমন খবরই চাউর হয় সেসময়।

২০১৪ সালে দেশের ক্ষমতায় এলেও গেরুয়া হাওয়া বাংলায় তীব্র ভাবে বয় উনিশের লোকসভায়। সেবারই বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অর্পিতা ঘোষকে ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য সাংসদ হন সুকান্ত মজুমদার। এরপর পান রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব। বিগত পাঁচ বছরে বালুরঘাট তথা দক্ষিণ দিনাজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের রেলের যে দাবি ছিল, তা পূরণ করেছেন সুকান্ত। নিজের সাংসদ তহবিলের অর্থ থেকে এলাকার উন্নয়নের কাজও করেছেন তিনি।

বিধানসভায় বালুরঘাটের ৭টি আসনের মধ্যে চারটিতে জেতে তৃণমূল- ইটাহার, কুশমান্ডি, কুমারগঞ্জ ও হরিরামপুর। বিজেপি পায় ৩টি আসন- বালুরঘাট, তপন ও গঙ্গারামপুর। চারটি আসন মিলিয়ে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ১,০৮,৬৭৮ ভোটে। অন্যদিকে, বিজেপি তিনটি আসনে মোট লিড পায় ১৯,৬৭৮। অর্থাৎ, তৃণমূল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বিধানসভায় প্রায় ৮৯ হাজার ভোট বেশি পায়।
দুই ভূমিপুত্রের লড়াই, বালুরঘাটে মুখোমুখি সুকান্ত-বিপ্লব!
ইটাহারে বিধানসভায় তৃণমূল ব্যাপক লিড পায়, তার নেপথ্যে ছিল স্থানীয় নেতা অমল আচার্য্যের ভূমিকা। কিন্তু তিনি এই মুহূর্তে একেবারেই নিষ্ক্রিয়। তৃণমূলের আর এক নেতা সোনা পালের প্রতিও মানুষ ক্ষুব্ধ। বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তিনি প্রায় একঘরে! ফলে, সুকান্ত মজুমদারের এই কেন্দ্রের ফেবারিট হয়েই ছিলেন।

সেখানে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে সুকান্ত মজুমদারের লড়াই কিছুটা সহজ হলেও, বিপ্লব মিত্রের ক্ষেত্রে তা হবে না। কারণ, দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনীতিতে মিত্র পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পাশাপাশি, দুই প্রার্থীই দিনাজপুরের ভূমিপুত্র। ফলে, বালুরঘাট কেন্দ্রে একটা হাডাডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে, এরকমই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।






