মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারছেন না, সাংসদ পদ ছাড়তে চান জানালেন অর্জুন সিং।

মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারছেন না, সাংসদ পদ ছাড়তে চান জানালেন অর্জুন সিং।
মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারছেন না, সাংসদ পদ ছাড়তে চান জানালেন অর্জুন সিং।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারছেন না, সাংসদ পদ ছাড়তে চান জানালেন অর্জুন সিং। তিনি ভাটপারার একচ্ছত্র অধিপতি। তাঁর দাপটেই চলে গোটা এলাকা। তবে ভোটে পরাজয়ের পর বিজেপির সেই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অর্জুন সিং নিজের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাইলেন। কারন হিসেবে দেখিয়েছেন মানুষকে সুরক্ষা দিতে না পারার কারন। ভোটের আগে কার্যত দাপট দেখালেও ভোটের ফলে বিশেষ প্রভাব দেখাতে পারেনি বিজেপি।

আরও পড়ুনঃ শোভনের পর মমতার প্রশংসা দলবদলু প্রবীর ঘোষালের, তবে কি ফিরছেন পুরনো দলে?

বরং বাংলার সব প্রান্তে ফের বিপুল হারে ঘাস্ফুল ফুটেছে। তারপরেই কিছুটা কোনঠাসা ভাটপাড়ার বাহুবলি অর্জুন। প্রসঙ্গত উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুরে জয়লাভের পরে কার্যত গোটা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল অর্জুন ও তাঁর দলবল। সেই দাঙ্গা কেড়ে নিয়েছিল অসংখ্য মানুষের জীবন। আর এই সব ঘটনার জন্য বারে বারে অভিযোগের আঙুল উঠেছিল অর্জুন সিংয়ের দিকে। ২১ শে নির্বাচনে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১টিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। বাকি ৬ টি কেন্দ্রে ফুটেছে ঘাস্ফুল। এমন শোচনীয় হারের অবস্থায় ১৯ নির্বাচনের সেই দাঙ্গা কার্যত বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে অর্জুনের দিকে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট পরবর্তী হিংসা ছড়িয়ে পরেছে। ভাটপাড়া, শ্যামনগর, জগদ্দলের মতো শিল্পাঞ্চল সবসময়েই রাজনৈতিক অশান্তিতে উত্তপ্ত থাকে। ভোট পূর্ববর্তী কিংবা পরবর্তী সময়ে তা আরও বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। সোমবার শ্যামনগরে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের মাঝে পড়ে। বিজেপির দাবি, তিনি এক দলীয় কর্মীর মা।

এদিন ভাটপাড়ায় আক্রান্ত এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যান অর্জুন। সেখানে দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে অর্জুন নিজের পদ ছাড়ার কথা বলেন। তিনি জানান “এতজন জনপ্রতিনিধি আছে আমাদের দলে। এরপরও যদি মানুষকে নিরাপত্তা না দিতে পারি, তাহলে ইস্তফা দেওয়া উচিত।” তবে রাজনইতিক মহল মনে করছে শোচনীয় হারের পর কোণঠাসা অর্জুন কার্যত নিজের পিঠ বাঁচাতেই এমন সব কথা বলছেন।  একমাত্র ভাটপাড়ায় ছেলে পবন সিং জেতায় বিজেপির মুখরক্ষা হয়েছে। এছাড়া নোয়াপাড়া, জগদ্দল, নৈহাটির মতো শক্ত গেরুয়া ঘাঁটিতেও পদ্ম ফোটেনি। এমনকী বীজপুর কেন্দ্র থেকে মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশুও জিততে পারেননি। এর জন্য বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে মুখ পুড়েছে অর্জুনেরই।

মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারছেন না, সাংসদ পদ ছাড়তে চান জানালেন অর্জুন সিং। তার উপর দলের নিচুস্তরের কর্মীদের উপর হামলা, তাঁদের পাশে থেকেও বরাভয় দিতে পারেননি সাংসদ। ফলে নিজের পদ ছেড়ে দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি চাইছেন তিনি। জদিও প্রশ্ন উঠছে এভাবে আদৌ নিজের দায়িত্ব কি ঝেড়ে ফেলতে পারবেন অর্জুন?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here