২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি গরম হচ্ছে টলিপাড়ার অন্দরমহল। শাসকদলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় একাধিক তারকার নাম ঘোরাফেরা করছে—কেউ বলছেন নতুন মুখ, কেউ বলছেন ‘স্টার ফ্যাক্টর’-এর উপরেই ভরসা করবে রাজনীতি। সেই জল্পনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। কিন্তু সমস্ত জল্পনা একেবারে স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিলেন তিনি। জানালেন, রাজনীতি তাঁর ক্ষেত্র নয়, আর ভোটের ময়দানে নামার মতো যোগ্যতাও নিজের মধ্যে দেখেন না।
সম্প্রতি নিজের জন্মদিন উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তা পাওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় জোর আলোচনা—তবে কি এবার নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন অপরাজিতা? নেটমাধ্যমে কটাক্ষও কম হয়নি। কেউ কেউ ধরে নিয়েছিলেন, বিধানসভা টিকিট প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু সেই সব জল্পনায় সরাসরি জল ঢেলে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
‘অভিনয়ই আমার জায়গা’
এক সাক্ষাৎকারে অপরাজিতা বলেন, রাজনীতিতে আসার জন্য যে ধরনের পড়াশোনা, প্রস্তুতি ও আগ্রহ প্রয়োজন, তা তাঁর নেই। তাঁর কথায়, “রাজনীতি আমার প্যাশন নয়। আমি নাচ, গান আর অভিনয়টাই বুঝি। অজানা জায়গায় গিয়ে নিজেকে হাসির খোরাক করতে চাই না।”
অভিনেত্রীর এই স্বীকারোক্তি তাঁর বিনয়ী ও বাস্তববাদী অবস্থানকেই সামনে এনেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সতীর্থদের পথেও হাঁটবেন না
টলিপাড়ার একাধিক তারকা ইতিমধ্যেই রাজনীতিতে সফলভাবে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। লাভলী মৈত্র, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো অভিনেত্রীরা সক্রিয় রাজনীতির অংশ হলেও সেই পথে হাঁটার কোনও ইচ্ছা নেই অপরাজিতার। তাঁর মতে, রাজনীতি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে বিষয়টির উপর দক্ষতা ও গভীর বোঝাপড়া থাকা জরুরি।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক নয়
তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দীর্ঘদিন পরিচিত অপরাজিতা আঢ্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও স্নেহের সম্পর্ক রয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। তবে সেই সম্পর্ককে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে রূপ দিতে তিনি প্রস্তুত নন।
অপরাজিতার কথায়, “ভালোবাসা ব্যক্তিগত জায়গার। সেটাকে ভোটের রাজনীতির সঙ্গে মেলাতে চাই না।”
অভিনেত্রীর এই স্পষ্ট অবস্থান রাজনৈতিক জল্পনায় সাময়িক ইতি টানলেও, নির্বাচনের আগে তারকাদের ঘিরে আলোচনার পারদ যে আরও বাড়বে—তা বলাই যায়।



