নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভাল ছেলে বাবুল সুপ্রিয়, অন্তত অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া সেটাই। যারা রাজ্য রাজনীতির খবর রাখেন তাঁরা ভালই জানেন বাবুল এবং অনুব্রতর সম্পর্ক নিয়ে। অহি নকুল বললেও কম বলা হবে। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ তথা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই তোপ দাগতেন বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল। বাবুলও কম যেতেন না। কড়া কড়া জবাব আর ব্যাপক কটাক্ষে পাল্টা জবাব শানাতেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বিমল গুরুং-এর দুর্গে ফাটল, শান্তার নেতৃত্বে তৃণমূলে যোগ দিলেন ২ হাজার মোর্চা সমর্থক।


কিন্তু এখন সেসব অতীত। কদিন আগেও ‘কয়লা চোর ভাইপো’ উপাধিতে ভূষিত করা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে তৃণমূলের উত্তরীয় গলায় জড়িয়েছেন আসানসোলে সাংসদ। রাজনৈতিক সন্নাসের কথা ভুলে জনসেবা করতে চান তিনি। দল হিসেবে বেছে নিয়েছেন তৃণমূল কে। দিদির প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা আর আবেগ ঝরে পড়েছে গলায়। এখন তিনি সর্বোপরি প্রথম একাদশে থাকতে চাওয়া তৃণমূল নেতা।
স্বাভাবিক ভাবেই অনুব্রত মণ্ডলের গলাতেও ঝরে পড়েছে আবেগ। ভাল ছেলে বাবুল -এর সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চান বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। অবশ্যই পুরনো কথা ভুলে। এদিন বাবুলের যোগদান প্রসঙ্গে কেষ্ট বলেন, “বাবুল সুপ্রিয় ভাল ছেলে। আমরা খুশি ওঁ দলে এসেছেন। ভাল কাজ করবে। উন্নয়নের সঙ্গে থাকবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকবে। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। পুরনো কথা ভুলে যেতে হয়। মনে রাখতে নেই। আমি চাই ও দলের সঙ্গে থেকে ভাল কাজ করতে হবে।”
ভাল ছেলে বাবুল, ‘পুরনো কথা’ ভুলে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবেন কেষ্ট!
এই প্রসঙ্গে বলা যায় এনআরসি প্রসঙ্গে বাবুল-অনুব্রত তরজার কথা। বাংলায় অনলাইনে এনআরসি চালু হতে পারে ঘোষণা করা হয়েছিল বিজেপির তরফে। তা নিয়ে অনুব্রত বলেছিলেন, “কীসের অনলাইন? কে যাবে? মানুষ কী এত বোকা নাকি! যে সাইবার ক্যাফেতে হবে সেখানকার কম্পিউটার ভেঙে দেওয়া হবে। আর যে ফর্ম পূরণ করবে তার মাথা কামিয়ে ঠ্যাং আর শিরদাঁড়া ভেঙে দেওয়া হবে।” পাল্টা বাবুল বলেছিলেন, “অনুব্রত মণ্ডলের কী ঠ্যাং বা শিরদাঁড়া আছে? যার নিজেরই শিরদাঁড়া নেই সে আবার অপরের শিরদাঁড়া কী ভাবে ভাঙবে? একবার চেষ্টা করে দেখুন। যখন তিনি এই কথা বলছিলেন তখন হয়তো মাথায় অক্সিজেন পৌঁছায়নি।”









