নজরবন্দি ব্যুরো: গরু পাচার মামলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দী বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। বারবার জামিনের আবেদন করেও লাভ হয়নি। শারীরিক অসুস্থতার কথা জানালেও খারিজ হয়েছে তাঁর জামিনের আবেদন। মঙ্গলবার ফের দিল্লির আদালতে জামিনের আর্জির শুনানি ছিল। হুইল চেয়ারে করে হাজিরা দেন অনুব্রত। কিন্তু এবারও আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: রেশন দুর্নীতিতে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর ভূমিকা কী? হেফাজতে নিয়েই জ্যোতিপ্রিয়কে জেরা ইডির


মঙ্গলবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের আবেদনের শুনানি ছিল। হুইল চেয়ারে করেই আদালতে ঢুকতে দেখা যায় তাঁকে। জানা যায়, আজ নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সময় বারেবারে পায়ে ব্যথার কথা বলেছিলেন অনুব্রত। তাঁর আইনজীবীদের জানিয়েছেন, পায়ের হাড় ক্ষয়ে যাচ্ছে। ডান দিকের পায়ে ব্যথা। যার জেরে পা ক্রমশ রোগা হয়ে যাচ্ছে। অনুব্রত ছাড়াও এদিন আদালতে হাজিরা দেন গরু পাচার মামলায় ধৃত সায়গল হোসেন। জেলে থাকাকালীন হাতে চোট পেয়েছিলেন অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী। এদিন হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধেই হাজিরা দেন তিনিও।

সূত্রে খবর, এদিন কোর্টরুমে বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল তাঁর প্রাক্তন হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারির সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু মণীশ নিজের জায়গা ছেড়ে উঠে গিয়ে অনুব্রতর সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেন। এরপর থেকেই এনিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অনুব্রত মণ্ডলের থেকে দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন মণীশ কোঠারি? যদিও এ বিষয় কারও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



উল্লেখ্য, গরু পাচার মামলায় সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন মণীশ কোঠারি। কিন্তু বারবার আবেদনের পরও জামিন পাননি অনুব্রত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রতিবার জামিনের বিরোধিতা করে আশঙ্কা জানিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের মত একজন প্রভাবশালীকে জামিন দেওয়া হলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। গত বছর ১১ আগস্ট বীরভূমের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এরপর ইডি এই মামলার তদন্তে নামলে তারাও অনুব্রতকে জালে নেয়। ইডির আবেদনের ভিত্তিতে গরু পাচার মামলা দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়। বিগত কয়েক মাস ধরেই দিল্লির তিহাড় জেলে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল সহ গরু পাচার মামলায় অভিযুক্তরা।
পায়ে ব্যথা, হাড় ক্ষয়ে যাচ্ছে, হুইল চেয়ারে বসেই আদালতে হাজিরা দেন অনুব্রত

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



