নজরবন্দি ব্যুরোঃ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর সোমবার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হল আনিস খানের দেহ। দেহ তুলতে উপস্থিত হন তিন সদস্যের দল। সেই দলে ছিলেন হাওড়ার বিএমওএইচ এবং জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। আনিস খানের দেহ কবর তোলার সময় প্রচুর গ্রামবাসী কবরস্থানের চারপাশে ভিড় করেন। দেহ তোলার সময় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিওগ্রাফি করা হয়৷ পরে ময়নাতদন্তের(Post Mortem) জন্য তা SSKM হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বারাসতের জেলা বিচারকের পর্যবেক্ষণে সেখানে আনিস খানের দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়৷ ময়নাতদন্তের সময় আনিস খানের শরীরের ভিসেরার নমুনাও সংরক্ষণ করা হবে। সিট আধিকারিকরা দাবি করেছেন, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে আনিস ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল নাকি ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল আনিস কে!


গতকাল ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৩ টে বেজে ৯ মিনিটে দেহ পৌঁছয় হাসপাতালে। বিকেল চারটেয় শুরু হয় ময়নাতদন্ত। চার ঘণ্টা ধরে চলে আমতার মৃত ছাত্রনেতা আনিস খানের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন ভঙ্গিতে আনিসের দেহের ১১ টি এক্স-রে করা হয়েছে বলে খবর। এসএসকেএম হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজির সহকারি অধ্যাপক ইন্দ্রানী দাস -সহ তিন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রথমে এক্স-রে করা হয়। রাত ৮ টা বেজে ২৫ মিনিটে শেষ হয় ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া।
১১ বার এক্স-রে, ৪ ঘণ্টা ময়নাতদন্ত, ৪ টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সিট!

কিন্তু ঠিক কি কি জানতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত হচ্ছে আনিসের? চিকিৎসকদের কাছে সিটের প্রশ্ন, ১) আনিসের শরীরে কোনও হাড়া ভাঙা ছিল কি না। ২) কোন হাড়ে চিড় ছিল কি না। ৩) ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিল কি না ৪) তার শরীরে অন্য কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। আপাতত ময়নাতদন্ত শেষ। এবার অপেক্ষা রিপোর্টের। ময়নাতদন্ত শেষে আনিসের দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমতায়। আজই ফের কবরস্থ করা হবে দেহ।
উল্লেখ্য, এর আগে আমতার ছাত্রনেতা আনিস খানের রহস্যমৃত্যুর কিনারা পেতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য পরিবারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল সিটের আধিকারিকরা। কিন্তু সিটের ময়নাতদন্তের ওপর আস্থা না থাকায় অনুমতি দেয়নি আনিসের পরিবার। পরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিট। আদালতের তরফে অনুমতি মিলতেই দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য রাজি হয় আনিসের পরিবার।









