অনীকের ছবি দেখানো হবে নন্দনে, ঘোষণা রুদ্রনীলের, তৃণমূলকে নিশানা পাপিয়ার

অনীক দত্তের শেষযাত্রায় নন্দনে আবেগঘন পরিবেশ। ‘ব্রাত্য’ ছবির প্রদর্শনের ঘোষণা রুদ্রনীলের, সাংস্কৃতিক বঞ্চনা নিয়ে সরব একাধিক শিল্পী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তের শেষযাত্রাকে ঘিরে শুক্রবার নন্দন চত্বরে তৈরি হল আবেগঘন পরিবেশ। জীবদ্দশায় যাঁর একাধিক ছবি নন্দনে প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই অনীক দত্তের মরদেহই এদিন শেষ শ্রদ্ধার জন্য আনা হল রাজ্যের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নন্দনে। উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, রাজনৈতিক নেতা এবং অসংখ্য অনুরাগী।

নন্দনের মূল প্রাঙ্গণে ফুলে সাজানো অনীক দত্তের প্রতিকৃতির সামনে একে একে শ্রদ্ধা জানান টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অঞ্জন দত্ত, বিদিপ্তা চট্টোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিমান বসু সহ আরও অনেকে।

শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে গিয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, অনীক দত্ত তাঁর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজের নানা বাস্তব দিক তুলে ধরেছিলেন। তাঁর দাবি, অতীতে রাজনৈতিক কারণে পরিচালকের একাধিক ছবি নন্দনে প্রদর্শনের সুযোগ পায়নি। ভবিষ্যতে শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিভাজন থাকবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অনীক দত্তকে স্মরণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীও তীব্র ভাষায় পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, পরিচালকের উপর দীর্ঘদিন মানসিক চাপ ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনীক দত্তের কিছু ছবি নন্দনে প্রদর্শনের অনুমতি না পাওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।

একই সুর শোনা যায় অভিনেত্রী রুপা গাঙ্গুলির বক্তব্যেও। তিনি সরাসরি কারও নাম না করলেও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, অনীক দত্তের মতো সৃষ্টিশীল মানুষকে আরও অনেক কাজ করতে দেখা উচিত ছিল। তাঁর অকাল প্রয়াণে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অন্যদিকে রুদ্রনীল ঘোষ ঘোষণা করেন, অনীক দত্তের যেসব ছবি অতীতে নন্দনে প্রদর্শন নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিল, সেগুলি ভবিষ্যতে নন্দনে দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, শিল্পের মূল্যায়ন হবে শিল্পের গুণমানের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নয়।

4

নন্দন থেকে পরে অনীক দত্তের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় টলিগঞ্জের এনটিওয়ান স্টুডিওতে, যেখানে তিনি দীর্ঘ সময় কাজ করেছিলেন। সেখানেও শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হয় সহকর্মী ও অনুরাগীদের জন্য।

প্রয়াত পরিচালককে স্মরণ করে অভিনেতা জিৎ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। তবে এদিনের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একজন পরিচালকের বিদায় নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্র, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং অতীতের বিতর্ক নিয়েও নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর