প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নন্দন থেকে কেওড়াতলা— সর্বত্র ভিড় ছিল অনুরাগী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের। কিন্তু শেষযাত্রার আবহেই নতুন করে সামনে এল টলিউডের অন্দরের রাজনৈতিক বিভাজনের প্রশ্ন। একদিকে বহু শিল্পী, পরিচালক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকলেও, অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির একাধিক প্রথম সারির মুখের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
শুক্রবার সকালে নন্দন চত্বরে আনা হয় অনীক দত্তের মরদেহ। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান চলচ্চিত্রপ্রেমী সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংস্কৃতি জগতের বহু পরিচিত মুখ। গোটা আয়োজনের তদারকিতে ছিলেন অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন অঞ্জন দত্ত, লকেট চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, অঞ্জনা বসুসহ অনেকে।


পরবর্তীতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এনটি১ স্টুডিয়োতে, যেখানে কর্মজীবনের শুরুতে দীর্ঘ সময় কাজ করেছিলেন অনীক দত্ত। সেখানেও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত ছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, বিমান বসু, চন্দন সেন, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, হরনাথ চক্রবর্তী-সহ একাধিক শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
বিশেষভাবে নজর কেড়েছে অভিনেতা জিতের উপস্থিতি। সাধারণত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বা শোকসভায় তাঁকে খুব কমই দেখা যায়। ফলে অনীক দত্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর উপস্থিতি টলিউডে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। একইভাবে শেষ পর্যন্ত পরিবারের পাশে ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং অভিনেতা জীতু কমলও।
তবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একাধিক জনপ্রিয় তারকার অনুপস্থিতি। অনীক দত্তের বিভিন্ন ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকজন পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীকেও শেষযাত্রায় দেখা যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে এবং টলিপাড়ার অন্দরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে টলিউডে বিভাজন এখনও কতটা প্রবল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, একজন শিল্পীর প্রয়াণের মুহূর্তে রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে সকলের একত্রিত হওয়া উচিত ছিল।
এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একাংশও মন্তব্য করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মৃত্যুর পর কোনও ব্যক্তিকে রাজনৈতিক চশমায় দেখা উচিত নয়। শিল্পী হিসেবে অনীক দত্তের অবদানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেতা জীতু কমলও অনীক দত্তের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, একজন সৃষ্টিশীল মানুষকে অবহেলা বা মানসিক চাপে ফেলে দেওয়াও এক ধরনের ক্ষতি। তাঁর মন্তব্যও দিনভর আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত নন্দন থেকে এনটি১ স্টুডিয়ো এবং সেখান থেকে কেওড়াতলা— অনীক দত্তের শেষযাত্রা যেন শুধু একজন পরিচালকের বিদায় নয়, টলিউডের বর্তমান বাস্তবতারও এক প্রতিচ্ছবি হয়ে রইল। শ্রদ্ধা, আবেগ, স্মৃতি এবং বিতর্ক— সব মিলিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি ঘটল শুক্রবার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



