পশ্চিমবঙ্গে ৬৫০ কোটির মেগা প্রকল্প নিয়ে আসছে আমূল — তৈরি হবে বিপুল কর্মসংস্থান

পশ্চিমবঙ্গে ৬৫০ কোটি টাকার ডেয়ারি প্রকল্প গড়তে চলেছে আমূল। নতুন প্ল্যান্ট, দুধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনায় বাড়ছে শিল্প মহলের উৎসাহ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় বিনিয়োগের পথে আমূল। প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার মেগা ডেয়ারি প্রকল্প নিয়ে রাজ্যে আসছে দেশের অন্যতম বৃহৎ সমবায় দুগ্ধ সংস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান, শক্তিশালী হবে দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের পরিকাঠামো।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের ব্যবসা বিস্তারের পর এবার প্রথমবারের মতো রাজ্যে সম্পূর্ণ মালিকানাধীন ডেয়ারি প্রসেসিং প্ল্যান্ট গড়তে চলেছে আমূল। সংস্থার মূল সংগঠন গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কাইরা ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রোডিউসার্স ইউনিয়ন এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে বলে সূত্রের খবর।

শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজেদের উপস্থিতি আরও মজবুত করতে অসমেও প্রায় ১৫০ কোটি টাকার নতুন ডেয়ারি প্রকল্প শুরু করছে আমূল। সব মিলিয়ে দুই রাজ্যে মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

আমূল ডেয়ারির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমিত ব্যাস জানিয়েছেন, গুয়াহাটির কাছে নতুন একটি ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরি হচ্ছে, যেখানে প্রথম পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। সেখানে তরল দুধ, পনির, দই, ফ্লেভারড মিল্ক এবং মিষ্টি দই উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পের জন্য একাধিক জায়গা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, একটি বড় কেন্দ্রীয় প্ল্যান্টের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট ফিডার প্ল্যান্ট তৈরির বিষয়েও ভাবনা চলছে। এতে পরিবহণ খরচ কমবে এবং দ্রুত বাজারে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘি, মাখন ও আইসক্রিমের মতো পণ্য একটি কেন্দ্রীয় ইউনিটে তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে দুধ, টকদই, ঘোল এবং লস্যির মতো পণ্য ছোট ইউনিটে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে শুধুমাত্র কলকাতাতেই আমূলের দৈনিক দুধ বিক্রি প্রায় ১১ লক্ষ লিটার বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সংস্থার দুধ সংগ্রহের পরিমাণও বেড়ে প্রায় ৯ লক্ষ লিটারে পৌঁছেছে। অসমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করছে আমূল।

শিল্প মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই মেগা বিনিয়োগ আমূলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ। পশ্চিম ভারতের বাইরে পূর্বাঞ্চলেও নিজেদের বাজার শক্তিশালী করার পাশাপাশি সংগঠিত দুগ্ধ সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতেই এই পদক্ষেপ।

২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে কাজ শুরু করেছিল আমূল। সেই সময় অনেক সংশয় থাকলেও এখন বাংলা সংস্থার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে পরিণত হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের দুগ্ধ শিল্পে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছে শিল্পমহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর