ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন উন্মাদনার নাম বৈভব সূর্যবংশী। স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে অনলাইন স্টোর— সর্বত্র এখন দাপট ‘০৩’ নম্বর জার্সির। একসময় যেখানে ধোনির ৭, কোহলির ১৮ এবং রোহিতের ৪৫ নম্বর জার্সিই ছিল সমর্থকদের প্রথম পছন্দ, সেখানে এ বার জোর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বৈভবের জার্সি।
আইপিএলের অফিসিয়াল মার্চেন্ডাইজ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মরসুমে সবচেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে বৈভব সূর্যবংশীর জার্সিকে ঘিরে। শুধু অনলাইন বিক্রিই নয়, বাজারেও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ‘০৩’ নম্বর জার্সি।
ওই সূত্রের দাবি, গত কয়েক বছরে কোনও তরুণ ক্রিকেটারকে ঘিরে এমন উন্মাদনা দেখা যায়নি। আগে ধোনি, কোহলি বা রোহিতের জার্সি নিয়ে যে আগ্রহ ছিল, এখন সেই জায়গা দ্রুত দখল করছে বৈভব।
ক্রিকেট মহলের মতে, আগামী মরসুমে গ্যালারিতে সবচেয়ে বেশি যদি কোনও জার্সি চোখে পড়ে, তা হলে সেটি হতে পারে বৈভব সূর্যবংশীর ‘০৩’। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করে ফেলেছে বিহারের এই তরুণ।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর থেকেই নজরে আসে বৈভব। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিল সে। সেই ইনিংস ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতেও বড় ভূমিকা নেয়।
বিশ্বকাপ শেষ হতেই রাজস্থান শিবিরে যোগ দেয় বৈভব। এ বার প্রথমবার নিয়মিতভাবে আইপিএলে খেলার সুযোগ পেয়ে সেটাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে সে।
চলতি আইপিএলে ১৫ ম্যাচে ৬৮০ রান করেছে বৈভব। ৪৫.৩৩ গড়ের পাশাপাশি তার স্ট্রাইক রেট ২৪২.৮৫— যা এবারের প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ। একটি শতরান ও চারটি অর্ধশতরানও রয়েছে তার ঝুলিতে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ পরিসংখ্যান, বৈভব ৫৫টি চার মারলেও ছক্কার সংখ্যা ৬৫। অর্থাৎ চারের চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছে সে। আইপিএলের এক মরসুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কার নতুন রেকর্ডও গড়েছে বৈভব, ভেঙে দিয়েছে ক্রিস গেলের পুরনো নজির।
পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি রান, সবচেয়ে বেশি ছক্কা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ রান— একাধিক রেকর্ড ইতিমধ্যেই নিজের নামে করে ফেলেছে এই তরুণ। কমলা টুপির দৌড়েও সবার ওপরে রয়েছে সে।
অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলের এক সতীর্থের কথায়, “আমরা এখনও কোহলি স্যার বা রোহিত স্যারদের নিয়ে আলোচনা করি, আর বৈভব প্রস্তুতি নেয় তাঁদের সঙ্গে একই দলে খেলার। ওর আত্মবিশ্বাসই ওকে আলাদা করে দিয়েছে।”
ভারতীয় ক্রিকেটে ধোনি, কোহলি ও রোহিতের পরবর্তী প্রজন্মের মুখ কে হতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তর যেন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। আর জার্সির বিক্রি সেই বার্তাই আরও জোরালো করে দিচ্ছে।



