রাতে শোওয়ার আগে মোবাইল স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ চোখ রাখা, দেরি করে ঘুমানো বা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস— এই কয়েকটি ভুলই নীরবে বাড়িয়ে দিতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান জীবনযাত্রার কারণে কম বয়সিদের মধ্যেও বাড়ছে স্ট্রোকের আশঙ্কা, আর তার অন্যতম বড় কারণ অনিয়ন্ত্রিত রাতের রুটিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের আগে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক ‘স্লিপ সাইকেল’-কে নষ্ট করে দেয়। নীল আলো (Blue Light) মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে রক্তচাপ, মানসিক চাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত রাত জাগা বা কম ঘুম হওয়া মস্তিষ্কের রক্তনালীর উপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
এ ছাড়া ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়া, ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাসও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা স্ট্রোকের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞর
নিউরোলজিস্টদের মতে, অনেকেই রাতে দেরি করে কাজ করেন বা বিছানায় শুয়েও দীর্ঘক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটান। এতে ঘুমের গুণমান কমে যায় এবং শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের উপর।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া, হালকা খাবার খাওয়া এবং মানসিক চাপ কম রাখাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাতের কয়েকটি ছোট ভুলই ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।



