নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামী নভেম্বরেই নির্বাচন, আর তার আগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ । মার্কিন পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস পর এবার প্রাক্তন আমেরিকান মডেল অ্যামি ডরিস। দুজনই যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে । অ্যামি ডরিস অভিযোগ, ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ইউএস ওপেন টেনিস টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে তিনি ট্রাম্প কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হন ।
আরও পড়ুনঃ ডিজিটাল মিডিয়ার প্রভাব অনেক বেশি, তাই গাইডলাইন আনা জরুরি , নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের ।


একান্ত এক সাক্ষাত্কারে ডরিস বলেন, ভিআইপি বক্সের বাথরুমের বাইরে তাকে যৌন হেনস্থা করেন ট্রাম্প । ২৩ বছর আগে ঘটনাটি ঘটে। সে সময় ডরিস ছিলেন ২৪ বছরের তরুণী । ট্রাম্প তাকে জোর করে চুমু খেয়েছিলেন ও শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন । সারা শরীরে জোরপূর্বক স্পর্শও করেছিলেন। এত বছর পরও, সেই ঘটনা ভুলতে পারেননি ডরিস। এখনও রীতিমতো ‘অসুস্থ’ ও ‘নিপীড়িত’ বোধ করেন বলেও দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন তিনি। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ট্রাম্পকে তিনি চিৎকার করে সরে যেতে ও থামতে বলেছিলেন। কিন্তু, ট্রাম্প তার ওপর জোর খাটিয়েই যাচ্ছিলেন। ডরিস আরও বলেন, আপনি যত বড়ই হোন না কেন, কেউ যখন বলে ‘না’ তার মানে ‘না’ই ।
কিন্তু তার ক্ষেত্রে ‘না’ বলেও কাজ হয়নি, ট্রাম্প কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেননি সেদিন। তবে বরাবরের মতোই এবারও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । কিন্তু ডরিসও ছাড়ার পাত্রী নন। তাঁর অভি্যোগের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ইউএস ওপেনের ওই দিনের টিকিট এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তোলা ৬টি ছবি দেখিয়েছেন তিনি। এছাড়াও, ওই ঘটনার পর এতদিন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন বলে জানান ডরিস। প্রসঙ্গত, ৪৮ বছর বয়সী ডরিস এখন থাকেন ফ্লোরিডায়। দুই যমজ কন্যার মা তিনি।
২০১৬ সালে যখন অন্য আরও অনেক নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, তখনই তিনি এ ঘটনার কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, পরিবারের ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে সে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু এখন হঠাত্ মুখ খোলার ব্যাপারে ডরিস বলেন, তার দুই মেয়ের বয়স ১৩ হতে চলেছে। তাদের সঙ্গে যেন এমনটা কখনও না হয়। তার মেয়েরা জানুক , অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের মা চুপ থাকেননি, মুখ খুলেছেন।


আগামী নভেম্বরেই নির্বাচন, ভবিষ্যতে যে কোনো ধরণের জবরদস্তির ব্যাপারে তার মেয়েরা যেন সোচ্চার থাকতে পারে ,এটিই চান তিনি। এর আগেও, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে । নির্বাচনের আগে এরকম অভিযোগ রিপাবলিকান শিবিরে অনিশ্চয়তার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচকরা ।







