সম্প্রতি দেশের অন্যতম সম্মানজনক বেসামরিক পুরস্কার ‘পদ্মভূষণ’ গ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় গায়িকা অলকা ইয়াগনিক। তবে এই সাফল্যের মুহূর্তেও তিনি ভুলে যাননি গত কয়েক বছরের কঠিন সংগ্রামের কথা। বিরল শ্রবণ সমস্যার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে অনুরাগীদের আবেগপ্রবণ করে তুলেছেন কিংবদন্তি এই শিল্পী।
২৩ জুন রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পদ্ম পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দ্রৌপদী মুর্মু-র হাত থেকে পদ্মভূষণ সম্মান গ্রহণ করেন অলকা ইয়াগনিক। সম্মান গ্রহণের পর নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। গায়িকার কথায়, জীবনের এই বিশেষ স্বীকৃতি যেমন আনন্দের, তেমনই গত কয়েক বছরের শারীরিক লড়াইয়ের স্মৃতিও এখনও তাঁর সঙ্গেই রয়েছে।
অলকা জানান, তিনি এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল শ্রবণজনিত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। তবে চিকিৎসা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগোচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রথমবার প্রকাশ্যে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন অলকা ইয়াগনিক। তিনি জানান, ‘Sensorineural Hearing Loss’ নামে এক বিরল শ্রবণ সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগে কানের অভ্যন্তরীণ অংশ অথবা মস্তিষ্কে শব্দ পৌঁছে দেওয়ার স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে স্বাভাবিকভাবে শোনা ও শব্দ বুঝতে সমস্যা তৈরি হয়।

গায়িকার দাবি, একটি ভাইরাল সংক্রমণের পর আচমকাই এই সমস্যা দেখা দেয়। এরপর থেকেই তাঁর দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত কাজেও বড় প্রভাব পড়ে। গান রেকর্ডিং, স্টুডিওর কাজ কিংবা সাধারণ কথোপকথন— সব ক্ষেত্রেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অলকা ইয়াগনিক জানিয়েছেন, এখনও নতুন গানের কাজ খুব সীমিত পরিসরে করছেন। বিভিন্ন সঙ্গীত পরিচালক ও প্রযোজকদের কাছ থেকে প্রস্তাব এলেও শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে তিনি সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কাজের চাপ বাড়াতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই কঠিন সময়ে অনুরাগীদের ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন গায়িকা। তাঁর কথায়, অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা এবং ভক্তদের প্রার্থনাই তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি।
পদ্মভূষণের মতো বড় সম্মান পাওয়ার দিনে অলকা ইয়াগনিকের এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্প আরও একবার মনে করিয়ে দিল, সাফল্যের আড়ালেও অনেক শিল্পীকেই কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগোতে হয়। আর সেই লড়াইয়ে ভক্তদের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।



