নজরবন্দি ব্যুরোঃ গতকালই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। একসঙ্গে ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার খরচের টাকা এই দুর্নীতির মাস্টারমাইণ্ড মানিক ভট্টাচার্য্যের কাছ থেকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতি। এদিকে আজ আলিপুর আদালতে মুখ পুড়ল সিবিআইয়ের।
আরও পড়ুনঃ কর্ণাটকে ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গেল কংগ্রেস, অনেকটা পিছিয়ে বিজেপি


নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আলিপুর আদালত সমালোচনা করল সিবিআইয়ের। মূলত তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল, কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh) ও নীলাদ্রি ঘোষকে আলিপুরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন করেন তাঁদের আইনজীবী। তদন্ত নিয়ে কুন্তলের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ‘সিবিআই কি ব্যার্থ?’

এদিন আদালতে পেশ করার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনজোয়ার যাত্রা প্রসঙ্গে কুন্তল ঘোষ বলেন, ‘‘ভারতে যুবরাজের যাত্রায় জনজোয়ার।’’ ফের আদালত থেকে লকআপে যাওয়ার সময় কুন্তল বলেন, ‘‘আমার উপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির অত্যাচার ও জোর করে কথা বলিয়ে নেওয়ার জন্য আমি চিঠি লিখে যে অভিযোগ করেছি, তার ভিত্তিতে কোনও সমর্থন পাইনি। আমি বিচার চাই।’’ যদিও কুন্তলের আবেদনে সাড়া দেননি বিচারপতি। তাঁকে ২৬ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।
এদিকে, সম্প্রতি কলকাতা ও তার উপকণ্ঠে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের চার ঘনিষ্ঠ-সহ সাতজনের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি চালায়। এদিন সেই তল্লাশির রিপোর্ট সিবিআই আদালতে পেশ করলে তা দেখার পর বিচারক সিবিআইয়ের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন, ‘‘বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, পর্বতের মূষিক প্রসব। কিছুই পাওয়া যায়নি। গুড ফর নাথিং।’’


ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-কে তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের

বিচারক সিবিআইকে প্রশ্ন করেন, সরকারি কর্মী কোথায়? সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, সরকারি কর্মীর সন্ধান ও দুর্নীতিতে সরাসরি যোগের তথ্য মিললেও সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ আছে। বিচারক বলেন, তাঁকে জেলে গিয়েও জেরা করা হয়নি। নীলাদ্রি, তাপস ও কুন্তলের মধ্যে টাকা লেনদেনের যোগের সন্ধান মিললেও তাঁদের উপরে ও নিচে কারা রয়েছেন, কারা টাকা দিয়েছেন ও কাদের কাছে টাকা গিয়েছে, সেই তথ্য কোথায়?
তাপস টাকা তুলে কুন্তলকে দিলেও কুন্তল প্রাথমিক পর্ষদের কেউ নন। তাহলে প্যানেলে থেকে যিনি টাকা নিয়েছেন, সেই আধিকারিক কোথায়? এত বড় দুর্নীতি, তবে সিবিআই কি ব্যর্থ? এরপরেই বিচারক বলেন, তদন্তকারী আধিকারিক নিশ্চিতভাবে ভাল কাজ করছেন। কিন্তু ‘ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর’।







