নজরবন্দি ব্যুরো: অনিল কন্যার দায়সারা জবাব, তৃণমূলের মুখপত্র “জাগো বাংলা”-য় নিবন্ধ লেখার দায়ে প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের কন্যা অজন্তা বিশ্বাসকে এবার সাসপেন্ড করতে চলেছে সিপিএম। জানা গিয়েছে, আগামী শনিবার কলকাতা জেলা কমিটির বৈঠকে অজন্তাকে ঠিক কতদিন সাসপেন্ড করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, এবার এক লাফে ২৫ টাকা!
পাশাপাশি দলের নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অজন্তাকে সাসপেন্ড করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। তার মেয়াদ সর্বনিম্ন এক মাস বা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে। সেই মেয়াদের বিষয়টিই শনিবারের বৈঠকে নির্ধারিত হবে বলে জানা যাচ্ছে। তৃণমূলের মুখপত্রে উত্তর সম্পাদকীয়তে লেখা নিবন্ধের পরতে পরতে ছিলো কল্পনা দত্ত থেকে শুরু করে বিপ্লবী গিরিবালা, দুকড়িবালা সহ আরো নানা বিপ্লবী নারীদের কথা শেষে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রশংসা দিয়ে শেষ করা হয়।

সেই নিবন্ধের প্রথম কিস্তি লেখার পরেই অজন্তাকে শো কজ করা হয়েছিল। সিপিএম সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট এরিয়া কমিটির তরফে দেওয়া সেই কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাবে অনীল কন্যা জানিয়েছিলেন, পার্টি সদস্য হিসেবে তাঁর লেখায় কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তা ইচ্ছাকৃত নয়। তবে বলাই যায় এই জবাবে সিপিএম নেতৃত্ব সন্তুষ্ট হয়নি, তাই সেই জবাবের ভিত্তিতেই অজন্তাকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে খবর। অজন্তাকে শো কজ করেছিল সংশ্লিষ্ট এরিয়া কমিটি।
অর্থাৎ যে এলাকা থেকে অজন্তা পার্টির সদস্য, সেই এলাকার নেতৃত্ব। অজন্তা তাঁদেরই জবাব দিয়েছেন। অজন্তার জবাব পাওয়ার পর ঐ এরিয়া কমিটি অজন্তাকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছে। সেই সুপারিশ-সহ বিষয়টি পাঠানো হয়েছে সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটির কাছে। অনিল কন্যার দায়সারা জবাব, এনিয়ে কলকাতা জেলার সম্পাদকমণ্ডলী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। সূত্রের খবর, সেখানেও অজন্তাকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

তবে অজন্তাকে কতদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হবে, তা ঠিক হবে আগামী শনিবার কলকাতা জেলা কমিটির বৈঠকে। কলকাতা জেলা সম্পাদকমন্ডলী অজন্তাকে সাসপেনশনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা রাজ্যনেতৃত্বকে দিয়ে অনুমোদন করানোর প্রয়োজন নেই। সিপিআইএম-র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দল যদি মনে করে, কোনও পার্টি সদস্য দলবিরোধী কাজ করেছেন, তা হলে তাঁকে প্রথমে শো কজ করা হয়। শো কজের জবাবে দল সন্তুষ্ট না হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়।
তার মেয়াদ হতে পারে এক মাস থেকে এক বছর পর্যন্তও। সাসপেনশনের পরেও কোনও সদস্য দলবিরোধী কাজ করলে দল তাঁকে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করতে পারে বা সরাসরি বহিষ্কার করতে পারে। কার্যত অজন্তা দলের ‘সক্রিয়’ সদস্য নন। গত ২০ বছর তিনি দলের কোনও কর্মসূচিতেই সক্রিয় ভাবে অংশ নেন নি। তিনি কেবল একজন সাধারণ সদস্য হিসেবেই দলে রয়েছেন। অজন্তা পেশায় ইতিহাসের অধ্যাপক। তিনি সক্রিয় রাজনীতির চেয়ে অধ্যাপনা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন।
অনিল কন্যার দায়সারা জবাব, অজন্তাকে সাসপেন্ড করতে চলেছে সিপিআইএম
তবে তৃণমূলের মুখপত্রে তাঁর নিয়মিত নিবন্ধ এবং সেখানে অন্যান্য মহিলা রাজনীতিকের পাশাপাশিই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা সিপিএমকে আরও বেশি রুষ্ট করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসার পাশাপাশি সিঙ্গুর আন্দোলনকে ‘গণবিক্ষোভ’ বলা তাঁদের আরও বড়ো কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, সাসপেন্ড হওয়ার পরেও অজন্তা এমনকিছু করেন কি না, যা সিপিআইএম-কে আরও বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে। নাকি এই শাস্তি নীরবে হজম করে নেবেন অনিল কন্যা অজন্তা!









