সীমান্ত সংঘর্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা— আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। পাক বিমান হামলার পালটা জবাবে আফগান বাহিনীর আক্রমণ, আর তার মাঝেই সামনে এল আরও উদ্বেগজনক দাবি। একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানকে ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে তালিবান তাদের বিশেষ ‘ফিদায়েঁ’ বা আত্মঘাতী স্কোয়াডকে সক্রিয় করেছে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
আফগানিস্তানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘বখতর নিউজ’ একটি রিপোর্টে ফিদায়েঁ যোদ্ধাদের ব্যাটেলিয়নের ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরকভর্তি জ্যাকেট পরে থাকা যোদ্ধাদের দেখা গিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নির্দেশ পেলেই গাড়ি বোমা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলা চালাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এই স্কোয়াডকে।


তালিবানের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত জানিয়েছেন, বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন অংশ এবং খোস্ত সীমান্ত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই জবাবি অভিযান শুরু হয়েছে। আফগান প্রশাসনের দাবি, গত রবিবার পাকিস্তানের হামলার পর বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে পালটা আক্রমণ চালায়। তালিবান প্রশাসনের মতে, পাকিস্তানের অন্তত ১২টি সামরিক পোস্ট তাদের দখলে এসেছে এবং সংঘর্ষে ৫৫ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে— যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি।
এর পালটা হিসেবে শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বলে অভিযোগ। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়া প্রদেশে আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের বক্তব্য, সীমান্ত পার করে হওয়া আক্রমণের জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, “ধৈর্যের সীমা শেষ। এবার সরাসরি জবাব দেওয়া হবে।” পাকিস্তানের দাবি, তাদের যুদ্ধবিমান কান্দাহার আকাশে নিয়মিত টহল দিচ্ছে।


এই পরিস্থিতিতে তালিবানের আত্মঘাতী স্কোয়াড সক্রিয় হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অতীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘর্ষে এই ধরনের ইউনিট ব্যবহারের ইতিহাস থাকায় নতুন করে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।







