তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট ঘিরে যখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহল উত্তাল, তখনই সংগঠন বিস্তারের সুযোগ দেখছে কংগ্রেস। দলের অন্দরে বিদ্রোহ এবং নেতৃত্বের টানাপোড়েনের আবহে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন, ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন এবং দলের জন্য নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদের জন্য কংগ্রেসের দরজা উন্মুক্ত। তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপি ও তৃণমূল— উভয়ের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।


অধীর চৌধুরীর কথায়, বাংলায় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসর রক্ষা করতে বিরোধী শক্তিগুলিকে এক মঞ্চে আসতে হবে। তাঁর মতে, বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় না হলে রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও সংকুচিত হতে পারে।
রাজ্যের শাসকদলের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিরোধী শিবির নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা খুঁজছে। সেই প্রেক্ষাপটে অধীরের এই আহ্বানকে কেবল রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং সংগঠন সম্প্রসারণের কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। দলের একাংশের বিধায়কদের বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। বিরোধী দলনেতার পদকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


এদিকে দলীয় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তৃণমূলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি ও শাখা সংগঠনের কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও মহিলা সংগঠনের কাঠামো নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অধীর চৌধুরীর বার্তা স্পষ্ট— তৃণমূলের বর্তমান অস্থিরতায় হতাশ কর্মীদের জন্য কংগ্রেস বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হতে চায়। আগামী দিনে এই আহ্বান কতটা সাড়া পায় এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে তার কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



