নজরবন্দি ব্যুরো: বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আহতদের সঙ্গেও দেখা করার কথা তাঁর। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডুমুরজলা স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টারে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। বালেশ্বরের দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈঞ্চবের সঙ্গে কথা বলেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন।
রেল কর্তৃপক্ষকে তোপ দেগে তিনি আরও জানান, বালেশ্বরের এই দুর্ঘটনা শতাব্দীর সবচেয়ে বড়। প্রয়োজনে আহতদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি ক্ষোভের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমি তিন বছর রেলমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু এখন মনে হয় রেলে নিজেদের মধ্যে কোনও কো-অর্ডিনেশন নেই। কীভাবে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটল তার ভাল করে তদন্ত হোক।‘

শুক্রবার রাতে শালিমার-চেন্নাই এক্সপ্রেসের দুটি কামরা লাইনচ্যূত হয়। সেই কামরাতেই ধাক্কা মারে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এরপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কামরাগুলি কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে যায়। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ২০টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল রাতেই দুই প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উদ্ধারকার্য এবং ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখতে বালেশ্বর আসবেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, আহতদের দেখতে বালেশ্বরের সোরো হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে তিনি আহতদের সঙ্গে কথা বলে। ইতিমধ্যে যারা ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের তাঁদের মধ্যে একদল যাত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেন হাওড়া চলে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস আমি করে দিয়েছিলাম। এই ট্রেনটিতে ছিল না। তাই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।‘
বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন অধীর চৌধুরী, আহতদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন

ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বজনহারা পরিবারগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা এবং জখমদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন। তবে সময় যত গড়াচ্ছে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ২৬১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। রেলের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষ এবং শুরু হয়েছে রেল লাইন মেরামতির কাজ।



