সাবালকের ব্যর্থতা দেখতে আসতে হয় নাবালককে, অধিকারী গড়ে সপাট জবাব অভিষেকের

সাবালকের ব্যর্থতা দেখতে আসতে হয় নাবালককে, অধিকারী গড়ে দাঁড়িয়ে সপাট জবাব অভিষেকের
সাবালকের ব্যর্থতা দেখতে আসতে হয় নাবালককে, অধিকারী গড়ে দাঁড়িয়ে সপাট জবাব অভিষেকের

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সাবালকের ব্যর্থতা দেখতে আসতে হয় নাবালককে, আজ মেদিনীপুরে গিয়ে তথাকথিত অধিকারী গড়ে দাঁড়িয়েই গতকালের শুভেন্দুর ‘নাবালক’ মন্তব্য ফিরিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজনিতির আঙিনায় থাকলেও এই নির্বাচন কাল থেকেই ওয়াকিবহাল মহল বলছে অভিষেক যেন অনেক বেশি পরিণত। এতোদিন পাঠ নিয়ে তিনি তৈরি হয়েছেন পরিপূর্ন ভাবে।

আরও পড়ুনঃ আজ কেরালায় নামল বর্ষা, বাংলায় কবে আসছে জানাল হাওয়া অফিস

গোটা নির্বাচন কালে কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রী থেকে বঙ্গ বিজেপি সকলেই একযোগে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেককে। তবে রাজনৈতিক মহল বলছে লাগাতার ভাইপো তত্বে আক্রমণে আখেরে লাভ হয়েছে ভাইপো অভিষেকেরই। এই মুহুর্তে ইয়াস বিপর্যয়ের পর পরিদর্শন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। গতকাল পাথরপ্রতিমা সহ একাধিক এলাকা পরিদর্শনের পর আজই তিনি গেছেন মেদিনীপুরে। পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুর লাগোয়া এলাকা, রামনগর, কাঁথির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন, একাধিক বিপর্যস্ত এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন। কথা বলেন স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে, আশ্বাস দেন পাশে থাকার।

সেখানে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে শুভেন্ধু অধিকারীর গড়ে দাঁড়িয়েই উত্তর দিয়ে এসেছেন তাঁর কটাক্ষের। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্যুতে গতকাল পাথরপ্রতিমায় অভিষেক বলেছিলেন, “নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও ব্যাবস্থা নেওয়া উচিত। কমিশনের ব্যর্থতা। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওই আইন প্রয়োগ হোক। দেশে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, প্রতি দিন লাখ চারেক বলে মারা যাচ্ছেন, সকলকে বাড়িতে থাকার কথা বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তখন এ রাজ্যে এসে সভা করছেন। আর বলছেন, এত বড় সভা কখনও দেখিনি। ওর বিরুদ্ধে আগে ওই আইন প্রয়োগ হওয়া উচিত।’’

তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে গতকাল রাজভবন থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, অভিষেকের মন্তব্যের প্রসঙ্গ উঠলে শুভেন্দু বলেন, অভিষেক এখনও নাবালক, ওঁর কথার উত্তর দেব না। আর আজ মেদিনীপুরের একাধিক জায়গায় বেহাল দশা দেখে প্রক্ষান্তরে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে পালটা তোপ দাগলেন অভিষেক। কালকের নাবালক পয়েন্ট তুলে অভিষেক বলেন, “সাবালকের ব্যর্থতা দেখতে নাবালককে আসতে হয়। সাবালক শুধু বড়-বড় ভাষণ দিচ্ছেন।”

সঙ্গে নারদ প্রসঙ্গে তুলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি প্রাক্তন দলীয় সহকর্মীকে। তিনি বলেছেন, “উনি যখন সাবালক তো সাবালকত্বের পরিচয় দিন। সাবালককে অন ক্যামেরা টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। নাবালককে কিন্তু দেখা যায়নি।” তার সঙ্গেই বাঁধ প্রসঙ্গে অধিকারী পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে নাম না করেই তোপ দাগেন। গতকাল নবান্নতে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁধ ভাঙার কারণ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন পিতা-পুত্রকে নাম না করেই। আজ একই কথা শোনা গেল অভিষেকের মুখেও। তিনি সাফ জানিয়েছেন “মানুষের টাকা সরিয়ে কারা এই বাঁধ নির্মাণ করেছেন সবাই জানেন। কাউকে রেয়াত করা হবে না।”

অভিষেক কে সামনে পেয়ে স্থানীয় মানুষেরা বাঁধ ভাঙ্গা নিয়ে ক্ষভ প্রকাশ করেন, আবেদন করেন সাম্নের ভরা কোটালের আগে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের, ন্যথায় ফের ভাসবে গ্রাম গুলি বলেও জানান তাঁরা। মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি, এলাকার তৃণমূল নেতা সুপ্রকাশ গিরির থেকে সমস্ত তথ্য নেন তিনি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশ্ন তোলেন এতো তাড়াতাড়ি বাঁধ ভেঙে যায় কিভাবে? নাম না করে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী এবং দিঘা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাহ করেন। গতকাল নবান্নতে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারিদের বিরুদ্ধে নাম না করে ক্ষোভ প্রকাশ এবং তদনের নির্দেশ দেওয়ার পরে অভিষেকের মেদিনীপুর যাওয়ায় সকলেই তাকিয়ে ছিলেন অধিকারী গড়ে দাঁড়িয়ে অভিষেক কী বলেন তা দেখার জন্য।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, “এই রাস্তা, গার্ড ওয়াল তৈরির তদারকি করেছে দিঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদ। কে এর চেয়ারম্যান ছিলেন সকলেই জানেন। বাঁধ তৈরি করেছেন সেচমন্ত্রী। কে ছিলেন এই পদে তাও জানেন। মানুষের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ বড় হয়েছে অনেকের কাছে। মানুষের অর্থ গ্রাস করে নিজেদের জীবন সমৃদ্ধ করেছে। তাঁদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”  সঙ্গে স্থানীয়দের জানিয়েছেন ১০ তারিখ থেকে টাকা ঢুকবে ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here