দিন কয়েক আগেই রাজনীতি থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবু, মনটা যেন কোথাও গিয়ে পড়ে ছিল ডায়মণ্ড হারবারের দিকে। এই কেন্দ্র থেকেই এবার রেকর্ড মার্জিনে লোকসভা নির্বাচন জিতেছেন তিনি। শুক্রবার তিনি উপস্থিত হলেন আমতলার দলীয় কার্যালয়ে। প্রায় তিন ঘন্টারও বেশি সময় কাটালেন সেখানে।
আরও পড়ুন: উস্কানিমূলক ভাষণের অভিযোগ লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের বিরুদ্ধে, এবার সন্ত্রাসদমন আইনে মামলা
এবারের লোকসভায় ডায়মণ্ড হারবারে ৪ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতবেন বলে টার্গেট নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনি নিজে যা আশা করেছেন তার চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন। কার্যত ডায়মণ্ডের মানুষ উপুড়হস্ত মনোভাব দেখিয়েছেন অভিষেকের প্রতি। ৭ লক্ষের বেশি মার্জিনে এবার বিজেপি, সিপিআইএম-কে পিছনে ফেলে তিনি জয় পেয়েছেন। এবার সামনে বিধানসভা ২০২৬। দলীয় কর্মীদের কী বার্তা দিলেন অভিষেক?

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ডায়মণ্ড হারবার লোকসভা থেকে জেতার পরে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, এলাকার কর্মী ও লোকসভার অন্তর্গত বিধানসভার বিধায়করা সকলেই। অভিষেক সেখানে বলেন, “সকলকে আগামী দিনে আরও নম্র হতে হবে। আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। মানুষ তাঁদের জনমত জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে পছন্দ করেছেন, তাঁদের চাহিদা মেটানো তাই দলের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পরে। তাই আগামী দিনে প্রচার পর্বে দেওয়া যাবতীয় প্রতিশ্রুতি পালনে সচেষ্ট হতে হবে।”
রেকর্ড মার্জিনে জিতেছেন, বিরতির আগে ডায়মণ্ডের তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে খোশমেজাজে অভিষেক
অভিষেকের ভাষণের পাশাপাশি চলল শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখ। তৃণমূল সেনাপতিকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিবাদন জানান স্থানীয় নেতারা। এক বৃদ্ধার হাত ধরে অভিষেক অনেকক্ষণ কথা বলেন। সব মিলিয়ে একটা আনন্দের পরিবেশ ছিল শুক্রবার আমতলার এই তৃণমূল পার্টি অফিসে। তবে, অভিষেকের মাথায় রয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা। সেখানেও ভালো ফল কীভাবে হবে সেই মন্ত্রও কর্মীদের দিলেন তিনি।

এই অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে অভিষেক লিখেছেন, “মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক…আর কিছু নয়, এই হোক শেষ পরিচয়।” সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “বিজেপির সকল বিষাক্ত নখদন্ত গণতান্ত্রিক উপায় উপড়ে ফেলে, ৪ জুন বাংলা তথা দেশের মানুষ এক নতুন সূর্যোদয়ের সাক্ষী থেকেছে। ইতিহাসের পাতায় সাধারণ মানুষের এই লড়াই স্বর্ণাক্ষরে খচিত থাকবে। প্রকৃত অর্থেই এই নির্বাচন হয়েছে প্রতিরোধের নির্বাচন, প্রতিশোধের নির্বাচন এবং প্রতিবাদের নির্বাচন। বাংলা বিরোধীদের সকল দম্ভ, অহংকার, মেরুদণ্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে।”
অভিষেক আরও লিখেছেন, “আমি আলাদা করে আমার প্রাণপ্রিয় ডায়মণ্ড হারবারের গণদেবতাকে বিনম্র চিত্তে প্রণাম জানাচ্ছি। আমার মনের মন্দিরে সর্বদা ডায়মণ্ড হারবারের গণদেবতা পূজিত হন। তারা সকলে যে আশীর্বাদ এবং দোয়া দিয়ে আমায় পুনরায় ভালোবাসার ঋণে আবদ্ধ করলেন, এই ঋণ আমি উন্নয়নের মাধ্যমে পরিশোধ করবো কথা দিলাম। ডায়মণ্ড হারবারের আপামর জনসাধারণ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের আমার সহকর্মী, সহযোদ্ধাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আপনারাই এই অবিশ্বাস্য জয়ের মূল কাণ্ডারী।”



