ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। আর সেই আবহেই স্পষ্ট টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতাতেই হবে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই—লড়াইটা মর্যাদার।
রবিবার ভবানীপুরে দলীয় কর্মিসভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধু জয় নয়, জয়ের ব্যবধানই হবে আসল চ্যালেঞ্জ। তাঁর কথায়, “এই কেন্দ্রে আমাদের জয়ের মার্জিন ৬০ হাজারের বেশি করতে হবে। কলকাতার মধ্যে ভবানীপুরকে প্রথম স্থানে আনতে হবে।”
এই কেন্দ্রকে ঘিরে আগেই রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হয়েছে। কারণ, এখানে মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তাঁদের সরাসরি লড়াইয়ে অল্প ব্যবধানে জিতেছিলেন শুভেন্দু। ফলে ভবানীপুরের লড়াইকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ‘মেগা ডুয়েল’-এর আবহ।
তবে ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকেই উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় প্রবেশ করেন তিনি। আবার ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনে প্রায় ৫৮ হাজার ভোটে জয় পান। সেই ব্যবধান আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবার কৌশল সাজাচ্ছে তৃণমূল।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও স্থানীয় কর্মীরাও বৈঠকে যোগ দেন।
অভিষেক কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের ২৩১টি বুথে লিড ছিল, সেটাকে আরও বাড়াতে হবে। প্রত্যেকে নিজেদের এলাকায় অন্তত ৫টি করে ভোট বাড়ানোর চেষ্টা করুন।” পাশাপাশি তিনি ‘দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’ নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছনোরও নির্দেশ দেন।
কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে অভিষেকের দাবি, “আমাদের সরকার মানুষকে সুবিধা দিচ্ছে, আর কেন্দ্র তা কেড়ে নিচ্ছে।” একইসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো সামাজিক প্রকল্পের কথাও।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে এবার শুধু জয় নয়—জয়ের ব্যবধান নিয়েই তৈরি হচ্ছে বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ।



