ক্ষমতা হারানোর পরও সংগঠন গুছিয়ে মাঠে থাকার বার্তা দিল তৃণমূল। দলের নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থেকে শুরু করে সংগঠনের কৌশল— একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই কলকাতা পুরনিগমের নোটিস নিয়ে প্রথমবার সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
দিনভর জল্পনার পর পরিষদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বৈঠকে তাঁর সম্পত্তি নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিসের প্রসঙ্গ ওঠে। সেই সময় অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন, প্রশাসনিক পদক্ষেপে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদলাবেন না।
বৈঠকে অভিষেক বলেন, তাঁর বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এতে তাঁর অবস্থান বদলাবে না। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি জানান বলে সূত্রের দাবি। অন্যদিকে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের নেতাদের উদ্দেশে ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আশাবাদী বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থান বদলাবে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন ধরেই কলকাতা পুরনিগমের নজরে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়। পুরসভার পরিদর্শক দল তাঁর হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাটের একটি সম্পত্তি পরিদর্শন করে বলে জানা যায়। সূত্রের দাবি, সেখানে কিছু অনুমোদনবিহীন নির্মাণের বিষয় চিহ্নিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই নোটিস পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে পুরনিগম নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত।
তবে এই ইস্যুতে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সরাসরি দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে আলাদা করে কিছু জানানো হয়নি। পাশাপাশি তিনি জানান, কোন নির্মাণ আইনবহির্ভূত এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা প্রশাসনিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কমিশনারের এখতিয়ার।
এদিনের বৈঠকে রাজনৈতিক অস্বস্তি বাড়িয়েছে ফলতা কেন্দ্র নিয়েও আলোচনা। স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গিরের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সূত্রের খবর, কয়েকজন বিধায়ক জানতে চান এই সিদ্ধান্ত দলীয় স্তরে আলোচনা করে নেওয়া হয়েছিল কি না। দলের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়।
যদিও জাহাঙ্গির ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বৈঠকের আলোচনায় স্পষ্ট, বিরোধী আসনে থেকেও সংগঠন ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এখন তৃণমূলের প্রধান অগ্রাধিকার।



