অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর গাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীদের বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকার অভিযোগে দায়ের হওয়া মোটরযান আইন লঙ্ঘনের মামলায় নতুন মোড়। কালীঘাট (Kalighat) থানার চাওয়া নথির একটি অংশ রবিবার জমা পড়লেও, পুলিশ সূত্রে দাবি, সব তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সাংসদকে ফের নোটিস পাঠানো হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
কয়েক দিন আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির দরজার পাশে নিরাপত্তারক্ষীদের ঝুলে যাতায়াত করার একটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ওঠে, এই ধরনের চলাচল শুধু নিরাপত্তারক্ষীদের নয়, রাস্তায় থাকা সাধারণ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মোটরযান আইন ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের হয় কালীঘাট থানায়।
বাগুইআটির (Baguiati) বাসিন্দা রাজীব সরকার (Rajib Sarkar) থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেন, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ ধরনের যাতায়াত কোনওভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে একাধিক তথ্য ও নথি চেয়ে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংসদের প্রতিনিধির মাধ্যমে রবিবার থানায় লেটারহেডে কিছু নথি জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের দাবি, চাওয়া সমস্ত তথ্য এখনও জমা পড়েনি। ফলে অসম্পূর্ণ নথির ভিত্তিতে তদন্ত এগোনো কঠিন হওয়ায় নতুন করে আরও তথ্য চেয়ে নোটিস পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ জানতে চেয়েছিল, সংশ্লিষ্ট গাড়িটি কবে কেনা হয়েছে, সেই গাড়ির চালকের পরিচয়, ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর কী। পাশাপাশি গাড়ির পাদানিতে যাঁদের ঝুলতে দেখা গিয়েছিল, তাঁদের পরিচয়ও জানতে চাওয়া হয়েছে। যদি তাঁরা কোনও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী হন, তাহলে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ রয়েছে কি না, সেই সম্পর্কিত তথ্যও চেয়েছে পুলিশ।
অভিযোগে ১৯৮৮ সালের মোটরযান আইনের ১২৩ ও ১৮৪ নম্বর ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের তরফে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই নথি জমা দিতে বলা হলেও, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে রবিবার নথি জমা পড়ে। এখন বাকি তথ্য কবে এবং কীভাবে জমা পড়ে, তার উপরই তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।






