উত্তরবঙ্গের চা শিল্পকে ঘিরে বড় ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা (Pradhan Mantri Chaa Shramik Utsah Yojana – PMCSPY)’। এই প্রকল্পে মোট ৩১৩.৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং শ্রমিক কল্যাণে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
৩১৩.৩০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ
রবিবার নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য-স্তরের কমিটি সম্প্রতি ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা’-র রূপায়ণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ৩১৩.৩০ কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দ এই প্রকল্পে করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় ৭২ কোটি টাকার বিনিয়োগ
প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা (CSSSY)’।
এই কর্মসূচির আওতায় চা বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে ৭২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
৩২১টি বিশ্রামাগার তৈরি হবে
চা শ্রমিকদের জন্য ‘চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনা (CSAY)’-র অধীনে ৩২১টি বিশ্রামাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পে মোট ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী—
- পাহাড়ি এলাকায় তৈরি হবে ৮৮টি বিশ্রামাগার।
- সমতল এলাকায় তৈরি হবে ২৩৩টি বিশ্রামাগার।
এই বিশ্রামাগারগুলিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
একাধিক দপ্তর মিলেই বাস্তবায়ন করবে প্রকল্প
প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর (North Bengal Development Department)।
এই দপ্তর স্বাস্থ্য দপ্তর (Health Department), পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন (West Bengal Samagra Shiksha Mission) এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নই লক্ষ্য
রাজ্য সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চা বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং শ্রমিক কল্যাণে একাধিক ঘাটতি ছিল। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই ঘাটতি দূর করে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
আগামী দিনে প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।






