রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বহু পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, প্রায় দুই হাজার পঞ্চায়েত প্রধান নিয়মিত দপ্তরে উপস্থিত হচ্ছেন না, যার ফলে সাধারণ মানুষের পরিষেবা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কাজে ফেরার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, দায়িত্ব পালন না করলে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
‘দপ্তরে না আসায় পরিষেবায় সমস্যা’—মন্ত্রী
দিলীপ ঘোষের দাবি, বহু পঞ্চায়েতে প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক কাজের গতি কমে গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত শংসাপত্র, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অনুমোদন, টেন্ডার প্রক্রিয়া, অর্থপ্রদান এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজে প্রভাব পড়ছে।
মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েও অনেক ক্ষেত্রে পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক অচলাবস্থার অভিযোগ উঠছে।
জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান
পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, যাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের দায়িত্ব পালন করা উচিত। তিনি সকল পঞ্চায়েত প্রধানকে দ্রুত অফিসে ফিরে এসে নিয়মিত কাজ শুরু করার আবেদন জানান।
তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কেউ যদি অস্বস্তি অনুভব করেন, তবুও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।
কড়া বার্তা দিলীপ ঘোষের
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সাহায্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের কাজে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালন না করলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “ভালোয় ভালোয় চলে আসুন। দরকার হলে পুলিশ পাঠাব। সাধারণ মানুষকে দিয়ে বাড়ি ঘেরাও করানো হবে। ডিমের জায়গায় ইট মারা হবে তখন।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর জোরদার
সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত এবং পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ তুলেছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আগামী দিনে প্রশাসন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং নিষ্ক্রিয় পঞ্চায়েতগুলিতে পরিষেবা কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।






