দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর (Baruipur)-এ ১১ বছরের এক নাবালিকার মৃত্যুকে ঘিরে রবিবার তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের একাংশ ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ তোলেন। এরপর বিক্ষোভের মাঝে এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুকুর থেকে উদ্ধার নাবালিকার দেহ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১১ বছরের ওই নাবালিকা। রবিবার সকালে বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনও ফরেন্সিক ও তদন্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া বাকি।
গণপিটুনিতে মৃত্যু এক অভিযুক্তের
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সকালে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাটিও পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
একজন গ্রেপ্তার, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি
পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী দল অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
বিক্ষোভ, অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
নাবালিকার মৃত্যুর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কূলপি রোডে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করেন। অবরোধ সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে বলে অভিযোগ।
এই সময় পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর এবং সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্প (Suryapur Police Camp)-এ হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনায় কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ
বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নিলে নাবালিকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
তদন্ত অব্যাহত
একদিকে নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত, অন্যদিকে গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনাও পৃথকভাবে তদন্ত করছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।






