নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাথমিক শিক্ষক দুর্নীতিতে প্রতিনিয়ত মুখ পুড়ছে শাসক দলের। মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি পদ খুইয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজিরা দেন তিনি। এরপরেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, শিক্ষক নিয়োগে টাকার ভাগ গেছে শান্তিনিকেতনে।
নন্দীগ্রামের বিধায়কের কথায়, চাকরিগুলো সম্পূর্ণভাবে বিক্রি করা হয়েছে। মাণিক ভট্টাচার্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা ভাইপোর তালিকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে পালন করেছে। মাণিক ভট্টাচার্য এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের সম্পত্তির খতিয়ান আদালত দেখছে। আমরা দাবি করি, যদি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাহলে দেখবেন হাইকোর্ট স্বাক্ষরিত কত তালিকা, কীভাবে চাপ দিয়ে তপোমার বিধায়ক পদ চলে যাবে, তুমি টিকিট পাবে না। এমনটাও বলয়া হয়েছে।

শুভেন্দুর কথায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আগেই দফতর চলে গিয়েছিল। তারপর আবার দফতর ফিরে পেয়েছেন। শিক্ষায় দুর্নীতির ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্ত। কারণ, পরেশ অধিকারীর মেয়ের অ্যাপোয়েন্টমেন্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে, তার সিদ্ধান্ত না নিয়ে হতে পারে না। আর যে টাকা তুলেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মানিক ভট্টাচার্যরা, এর ৮০ ভাগ কালীঘাটে শান্তিনিকেতন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা সাইফোন হয়ে থাইল্যান্ডে গেছে, সিঙ্গাপুরে গেছে লণ্ডনে গেছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার একাধিক প্রশ্ন মানিক ভট্টাচার্যের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়। আদালতে সেই মাণিক ভট্টাচার্যকে কার্যত তুলোধনা করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। জানতে চাওয়া হয় তাঁর পেশা থেকে শুরু করে জীবন কুণ্ডলী।
শিক্ষক নিয়োগে টাকার ভাগ গেছে শান্তিনিকেতনে, শুভেন্দুর বক্তব্যে চাঞ্চল্য

শেষে বিচারপতি সাফ জানিয়েদেন, নিজের সঙ্গে সঙ্গে মাণিক বাবুর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ের বিয়ের আগের মোট স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব আদালতে জমা দিতে হবে। এবং তা জমা দিতে হবে একবারেই। পরে কোন ভাবেই সেই হিসেবের সাথে কিছু যোগ বা বিয়োগ করা যাবেনা। এই মামলার শুনানি হবে আগামী ৫ই জুলাই।



