সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ব্লকে ব্লকে কর্মসূচির ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি মঙ্গলবার কলকাতার রানি রাসমণি রোডে অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নেবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার কালীঘাটে দলের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদেই রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামছে দল।
তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবার প্রতিটি ব্লক স্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রানি রাসমণি রোডে অবস্থান-বিক্ষোভে বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচির জন্য ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক অনুমতি মিলেছে বলেও জানিয়েছেন কুণাল।
উল্লেখ্য, শনিবার সোনারপুরে এক নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়, হেনস্তা করা হয় এবং শারীরিক আক্রমণের চেষ্টাও করা হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়ক দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রত্যাশিত সংখ্যক বিধায়ক উপস্থিত না হওয়ায় বৈঠকটি স্থগিত রাখা হয়।
কুণাল ঘোষের বক্তব্য, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় এবং একাধিক জায়গায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ থাকায় অনেক বিধায়ক কলকাতায় পৌঁছতে পারেননি। তাঁদের অনুরোধেই আপাতত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একের পর এক সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে তৃণমূল নেতৃত্ব এখন সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার কৌশল নিচ্ছে। সোমবার ও মঙ্গলবারের কর্মসূচি সেই বার্তাই স্পষ্ট করছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।



