তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কালীঘাটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা তৃণমূল বিধায়ক দলের বৈঠকে প্রত্যাশিত উপস্থিতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র প্রায় ১৯ জন উপস্থিত হয়েছিলেন।
রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তৃণমূলের বিধায়ক দলের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।


তবে নির্ধারিত সময়ে অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়কের অনুপস্থিতি নজর কাড়ে। জানা গিয়েছে, প্রায় ৬১ জন বিধায়ক বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁদের অনেকেই দলকে জানিয়েছেন, এলাকায় বিভিন্ন সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে কলকাতায় আসা সম্ভব হয়নি।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি ধরপাকড় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বহু বিধায়ক নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ত রয়েছেন। সেই কারণেই বৈঠকটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। কারণ, নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। সেখানে মাত্র ১৯ জন বিধায়কের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


তৃণমূলের অন্দরে যদিও দাবি করা হচ্ছে, এটি কোনও সাংগঠনিক সংকটের ইঙ্গিত নয়। বরং বিভিন্ন জেলায় চলতে থাকা রাজনৈতিক সংঘাত এবং কর্মসূচির কারণেই অধিকাংশ বিধায়ক এলাকায় থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত রয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বও সেই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, নির্বাচনী ফলাফলের পর দলের অন্দরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, কালীঘাটের বৈঠকে কম উপস্থিতি তারই প্রতিফলন।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে। বরং আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তাই দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, স্থগিত হওয়া এই বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়ে কী বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



