মেয়র পদ ছাড়তেই বিস্ফোরক রাম চক্রবর্তী! আইপ্যাক, প্রার্থী নির্বাচন ও দলের নেতৃত্ব নিয়ে তোপ প্রবীণ তৃণমূল নেতার

চন্দননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফার পর আইপ্যাক, প্রার্থী নির্বাচন এবং দলের কিছু নেতার আচরণকে ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে দাবি করলেন রাম চক্রবর্তী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়ছে অসন্তোষের সুর। এবার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর দলীয় নেতৃত্ব, প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাককে নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন চন্দননগরের প্রাক্তন মেয়র রাম চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, শুধু বিরোধীদের প্রচার নয়, দলের অভ্যন্তরীণ একাধিক ভুলও ভোটে ভরাডুবির অন্যতম কারণ।

গত শুক্রবার রাম চক্রবর্তী-সহ ২৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফার ফলে চন্দননগর পুরসভার বোর্ড কার্যত ভেঙে পড়ে। আর তার পরেই প্রকাশ্যে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রামের অভিযোগ, ভোটের আগে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রার্থীকে ঘিরে ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল। সেই তথ্য স্থানীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে সংগ্রহ করলেও আইপ্যাক তা সঠিকভাবে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিতে পারেনি। তাঁর প্রশ্ন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি জানা সত্ত্বেও কেন কোনও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রবীণ এই তৃণমূল নেতার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আইপ্যাক বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সেই তথ্যের ব্যবহার কীভাবে হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, ভোটের আগে মানুষের অসন্তোষ এবং সংগঠনের দুর্বলতার ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব ছিল।

শুধু আইপ্যাক নয়, দলের কিছু নেতার আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাম চক্রবর্তী। তাঁর মতে, একাংশ নেতার ঔদ্ধত্য এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা গিয়েছে। সেই অসন্তোষই ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক মাধ্যমে তৃণমূলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিরোধীদের প্রচারের মোকাবিলায় দল কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। ফলে দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

রাম চক্রবর্তীর পাশাপাশি তৃণমূলের আরও কয়েকজন প্রবীণ নেতা সম্প্রতি আইপ্যাক এবং দলের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং বিবেক গুপ্ত। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাঁদের বক্তব্যও দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিকে সামনে এনে দিয়েছে।

এদিকে চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন-এর বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন রাম। তাঁর অভিযোগ, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ভোটের পরেও স্থানীয় সংগঠনের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি তাঁকে।

তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে যে আত্মসমালোচনার পর্ব শুরু হয়েছে, রাম চক্রবর্তীর মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। আইপ্যাকের ভূমিকা, প্রার্থী নির্বাচন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে আগামী দিনে তৃণমূলের ভিতরে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর