‘নকল সংসদেই থাকুন আজীবন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসবে না’, রাহুলকে কটাক্ষ অমিত শাহের

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের পাল্টা আক্রমণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। রাহুল গান্ধীকে ‘নকল প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার বার্ষিকীতে সভা করার জন্য কংগ্রেসকে নিশানা করলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। রবিবার চণ্ডীগড়ের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলে রাহুল গান্ধীকে আজীবন ‘নকল সংসদে’ থাকতে হবে। আসল সংসদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ তাঁর কোনও দিনই আসবে না বলেও মন্তব্য করেন শাহ।

রবিবার, ১ নভেম্বর, চণ্ডীগড়ের তিরঙ্গা পার্কে এক জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন অমিত শাহ। সেখান থেকেই দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Bloc) সমাবেশকে নিশানা করেন তিনি। শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে বিরোধীদের প্রতীকী ‘ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি এবং রবিবার রামলীলা ময়দানের সভাকে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, সোনিয়া গান্ধীর ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী করার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না বলেই এই ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছর ধরে তিনটি নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর কংগ্রেস নতুন পথ খুঁজছে।

রাহুল গান্ধীকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলে আজীবন নকল সংসদেই থাকুন। কারণ আসল সংসদে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পালা কোনও দিন আসবে না। বিরোধীদের সংসদীয় কর্মসূচিকে ‘মক পার্লামেন্ট’ বলে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, মিথ্যা বলা, অরাজকতা ছড়ানো এবং সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত করা বিরোধীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস চলতে থাকলে আরও পাঁচ বছর বিরোধী আসনেই থাকতে হবে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসা নিয়েও কংগ্রেসকে আক্রমণ

শুধু রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, ১ নভেম্বর তারিখে রামলীলা ময়দানে সমাবেশ আয়োজন নিয়েও কংগ্রেসকে নিশানা করেন অমিত শাহ। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনার বার্ষিকীতে দিল্লিতে রাজনৈতিক সভা করে কংগ্রেস শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষত আরও উসকে দিয়েছে।

শাহের বক্তব্য, ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর দিল্লিতে বহু শিখকে হত্যা করা হয়েছিল। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছিল, অনেকে স্বজন হারিয়েছিলেন। সেই দিনেই রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করাকে তিনি শিখ দাঙ্গার শিকার পরিবারগুলির প্রতি অসংবেদনশীলতা বলে আক্রমণ করেন।

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ‘বড় গাছ পড়লে মাটি কাঁপে’ মন্তব্যও তুলে ধরেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ের কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য ও ভূমিকা শিখবিরোধী হিংসার ক্ষতকে আরও গভীর করেছিল। ‘মহব্বত কি দোকান’ স্লোগান নিয়েও রাহুলকে কটাক্ষ করেন তিনি। শাহের দাবি, কংগ্রেসের ভালোবাসার দোকান থেকে ঘৃণা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না।

ভোট চুরি ও SIR নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন

উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত বা অযোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতেই এই সংশোধন করা হচ্ছে। ফলে SIR নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কমিশনের বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত।

ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের পাল্টা বিজেপিও ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য দূর করো’ কর্মসূচি শুরু করেছে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে অরাজকতা ছড়ানোর অভিযোগ তুলছে গেরুয়া শিবির। রামলীলা ময়দানের সভা ঘিরে রাহুল গান্ধীর আক্রমণের পর চণ্ডীগড় থেকে অমিত শাহের পাল্টা বক্তব্যে জাতীয় রাজনীতিতে সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর