আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে রাজ্য–কেন্দ্র সংঘাত আরও তীব্র। দু’দিনের বাংলা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেখানে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন, সেখানে পাল্টা তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—এই ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে যত বড় শিল্পপতি বা প্রভাবশালীই হোন না কেন, কেউ ছাড় পাবেন না। একই সঙ্গে বিজেপির ভোটের অঙ্ককেও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের গাফিলতির ফলেই এই বিপর্যয়। এমনকি তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—মোমো সংস্থার মালিক কেন এখনও গ্রেপ্তার নন এবং কেন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরে দেখা গিয়েছে? এই অভিযোগের পাল্টা জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি লাশ নিয়ে রাজনীতি করছে।”
অভিষেকের বক্তব্য, “ঘটনাটি নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক। কিন্তু একটি বেসরকারি গোডাউনে কোথায় কী রাখা হয়েছে, তা আগাম খতিয়ে দেখা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।” তবে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি জানান—গোডাউনের মালিক এবং পাশের মোমো সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ম্যানেজারকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর আশ্বাস, তদন্তে যাঁদের দায় মিলবে, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র স্পেন সফরে ওই মোমো সংস্থার মালিকের উপস্থিতি নিয়েও বিজেপির অভিযোগের পাল্টা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন বলেই বিজেপি এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে। অথচ নীরব মোদী বা মেহুল চোকসির মতো ব্যবসায়ীরা ১৫–২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দেশ ছেড়েছে, তারাও তো মোদীর সঙ্গে বিদেশ সফর করেছে।” এমনকি গোয়ার ক্যাফে অগ্নিকাণ্ড বা মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিষাক্ত জল খেয়ে মৃত্যুর ঘটনার দায়ও মোদী–শাহের ঘাড়ে চাপানো উচিত বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
অন্য দিকে, ব্যারাকপুরের সভা থেকে অমিত শাহ বিজেপির ভোট শতাংশ বাড়ার দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ বিধানসভায় বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল এবং ২০২৪ লোকসভায় ভোট শতাংশ ছিল ৩৮। এবার তা বেড়ে ৪৫ শতাংশে পৌঁছবে। এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, “২০২১ সালেও ওঁরা ২০০ আসন পার করার কথা বলেছিলেন। লোকসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাতেই সবচেয়ে ভালো ফল হবে। ফলাফল সবাই দেখেছেন।”
সব মিলিয়ে, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়–দায়িত্বের প্রশ্নে যেমন তীব্র রাজনৈতিক তরজা চলছে, তেমনই ২০২৬-কে সামনে রেখে ভোটের অঙ্কেও একে অপরকে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না শাসক ও বিরোধী শিবির।



