নজরবন্দি ব্যুরো: আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে উঠে এসছে অশান্তির ঘটনা। এহেন পরিস্থিতিতেই সম্পূর্ণ হয়েছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। পাশাপাশি কমিশনের পক্ষ থেকেও শুক্রবার মনোনয়নের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই তালিকার জেরেই নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ে ধস! আটকে দু’হাজারেরও বেশি পর্যটক
জানা যাচ্ছে, ওই তালিকায় ১৩ জন আপ প্রার্থীর নাম রয়েছে, যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কিন্তু আপের পক্ষ থেকে প্রথমেই জানানো হয়েছিল যে, তাঁদের দল পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলায় লড়বে না। যেহেতু লোকসভা নির্বাচনের আগে গোটা দেশে বিজেপি বিরোধী জোট গঠনের আবহ তৈরি হয়েছে। আর তাতে মুখ্য ভূমিকা নিচ্ছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালরা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই কারণেই বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের পথে কাঁটা না হতে চেয়ে নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আপ। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তালিকায় যে ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন তাঁরা কেন দলের নিষেধ অমান্য করে মনোনয়ন জমা দিল?

ইতিমধ্যেই সেই ১৩ জন প্রার্থীর খোঁজ শুরু করেছে আপ। একইসঙ্গে আপের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে এই সংক্রান্ত একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, যারা দলকে আমান্য করে আপের নামে মনোনয়ন জমা দিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে পুলিশে অভিযোগ জানানো হবেও বলে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা নির্বাচনে যোগ দিতে চায় না। যার দরুন, গত ১৩ জুন সর্বদল বৈঠকে একটি চিঠিও কমিশনকে দেয় আপ। তারপরেই ১৫ জুন সব জেলার পঞ্চায়েত নির্বাচনের আধিকারিকদের এই বিষয়টা জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও কিভাবে আপের নামে মনোনয়ন জমা নেওয়া হল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন! আপ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলার দুই প্রার্থীর খোঁজও পাওয়া গিয়েছে। তবে সকলের নাম জানা হয়ে গেলে, তারপরেই দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
দলকে অমান্য করে আপের নামে মনোনয়ন জমা, আইনি পদক্ষেপের চায় আপ




