নজরবন্দি ব্যুরো: একদশক পিছিয়ে সেই সিঙ্গুরেই শিল্প। “মাননীয়া সেই মানলেন,শুধু বাংলাকে পিছিয়ে দিলেন ১০ বছর।” অসুস্থ শরীর নিয়ে বিড়বিড় করে বলে যাচ্ছেন একজন। ক্ষমতায় আসার ১০ বছরের মাথায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন সিঙ্গুরে কৃষিজ শিল্প পার্ক তৈরির কথা। আর সেখানেই বামেদের চিন্তার জয় দেখছে গোটা রাজ্য। বাম আমলকে হটিয়ে মমতার উত্থানের সূচনাই হয়েছিল সিঙ্গুর শিল্প থেকে।
আরও পড়ুনঃ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে মামলা করলেন আন্তর্জাতিক শ্যুটার


এক দশক আগে”কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যত” স্লোগানে বাংলায় শিল্প আনতে চেয়েছিল বাম সরকার। বক্তব্য ছিল শিল্প হলে কাজ পাবেন একাধিক মানুষ। সচ্ছলতা আসবে পরিবারে। পরিবর্তন আসবে যাপনে। কিন্তু বাংলার মানুষ সেদিন সেই পরিবর্তন চাননি। বামেদের শিল্প ভাবনার বিরোধীতা করে তৎকালীন বিরোধী সরকার তৃনমূল কংগ্রেস। শিল্পের নামে বামফ্রন্ট সরকার কেড়ে নিচ্ছে মানুষের উর্বর সম্পদ, এই প্রচারে বামদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় পরিবর্তন এনেছিলেন তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর ক্ষমতার একদশক পর সেই তিনিই স্লোগান দিলেন “কৃষি আমাদের গৌরব,শিল্প আমাদের সম্পদ।” সব শুনে বিড়বিড় করছেন কেউ। মাননীয়া সেই বুঝলেন,শুধু বাংলা পিছিয়ে গেলো ১০ টা বছর। সিঙ্গুরে কৃষিজ শিল্প পার্ক স্থাপনের কথা সম্প্রতি জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ১১একর জমিতে লগ্নির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীদের।মমতা যেদিন এইকথা জানান, সেদিন ছিল তৎকালীন বামফ্রন্টের। শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনের দ্বীতিয় মৃত্যুবার্ষিকী। বামদল আবেগে জড়াচ্ছেন। বলছেন সেই তো হচ্ছে শিল্প। সেই সময়ের এত বাধা, বিরোধীতা উঠে আসছে চোখের সামনে।
বামেদের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেছেন বাংলার তরুণ প্রজন্মের কাজের চাহিদা পূরণের জন্য শিল্প ছাড়া গতি নেই আর। বামফ্রন্ট তা আগেই বুঝেছিল। যদিও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন অন্য কথা। তিনি আজও জানাচ্ছেন শিল্পের বিরোধী কখনোই ছিলনা তৃনমূল সরকার। বিরোধী ছিল জোর করে জমি অধিগ্রহণে। শিল্পের নামে জমি অধিগ্রহণ ছিল বেআইনি। মমতা বন্দোপাধ্যায় শুধু মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন। এখন রাজ্যে শিল্পের প্রয়োজন তাই লগ্নি করছেন। সিঙ্গুর শিল্প প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যদিও বলছেন “সিঙ্গুরে শিল্প শুনলে ঘোড়াও হাসবে।”


একদশক পিছিয়ে সেই সিঙ্গুরেই শিল্প। মমতা সরকার পুজো আর মেলা উদ্বোধনে ব্যস্ত তো শিল্প হবে কবে বলে প্রশ্ন তুললে সিপিএম এর পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম পাল্টা আক্রমণ করেছেন বিজেপি সরকার কে। মমতার তৎকালীন আন্দোলনে বিজেপি যে তৃনমূলের সপক্ষে ছিল তা মনে করিয়ে তিনি বিজেপি কে তাদের কেন্দ্রীয় শাসন কালে দেওয়া চাকরি শিল্পের হিসেবও চেয়েছেন তিনি। মোটের ওপর দেরিতে হলেও বাংলায় আসছে শিল্প। মানুষের স্বার্থে মমতা সরকারের এই সিদ্ধান্তে অন্তরালে বামেদের চিন্তার জয় দেখছেন রাজ্যবাসী।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



