নজরবন্দি ব্যুরোঃ চলতি মাসের ২০ তারিখে নজরবন্দির পক্ষ থেকে যে ঘুর্ণিঝড়ের আভাস দেওয়া হয়েছিল, আজ তাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল আবহাওয়া দফতর। কার্যত নজরবন্দির খবরে শিলমোহর দিয়ে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপ সাথে ঘূর্ণিঝড় দুটো একসাথে তাণ্ডব চালাতে চলেছে দক্ষিণ বঙ্গে। যার ফলে প্লাবিত হতে পারে বিস্তির্ণ এলাকা, ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে প্রচুর।
২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নজরবন্দির সেই খবরঃ ২৮ সেপ্টেম্বর দিনভর তাণ্ডব চলবে বাংলায়, আবার আসছে প্রবল ঘুর্নিঝড়। #Exclusive
এদিন সকালে আবহাওয়া দফতর সতর্কতা দিয়ে বলেছে, গভীর নিম্নচাপ আগামী ১২ ঘণ্টায় পরিণত হবে ঘূর্ণিঝড়ে। যা আগামীকাল বিকেলে ওড়িশার গোপালপুর ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের মাঝে কলিঙ্গপত্তনমের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে। পাশাপাশি আঁচ লাগবে পুর্ব মেদিনীপুরেও। রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হবে। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে অবিরাম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
তবে দুর্যোগ এখানেই শেষ হচ্ছে না। এই নিম্নচাপ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার আগেই অন্য একটি ঘুর্ণাবর্ত আছড়ে পড়বে। কারন এই ঘুর্ণিঝড় ল্যান্ডফল হওয়ার আগেই ২৭ তারিখ বঙ্গোপসাগরে আরও একটি ঘুর্ণিঝড় তৈরী হবে।যা ক্রমশ উত্তর অভিমুখে এগোতে থাকবে এবং আগামী ২৮ তারিখ সন্ধ্যেবেলায় আছড়ে পড়বে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায়। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে কমবেশি ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
গভীর নিম্নচাপ সাথে ঘূর্ণিঝড়, হাই অ্যালার্ট জারি করল আবহাওয়া দফতর।

ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কোস্ট গার্ডকে। জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। যাঁরা ইতিমধ্যেই মাঝ সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী। ঘূর্ণিঝড় গুলাব ও ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলার মোকাবিলায় তৎপর হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। কাকদ্বীপ, নামখানা, সাগর, পাথরপ্রতিমা, রায়দিঘি, গোসাবা, কুলতলি, ক্যানিং, বাসন্তী এলাকায় পুলিশ, মৎস্য দফতর ও পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে লাগাতার মাইকে প্রচার চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকেই ঘুর্ণিঝড় ভালভাবেই ছুঁয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ কে। ২০২০-র এক ঝড়ের ধাক্কায় লাখো মানুষ হারিয়েছিলেন ঘরবাড়ি। ঝড়ের নাম আমফান। আমফানে এ রাজ্যে মারা গিয়েছেন ৯৮ জন। সার্বিকভাবে তিনটি সাইক্লোনই বঙ্গে প্রাণ নিয়েছে শতাধিক মানুষের। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বুলবুল, ২০২০ সালের মে মাসে আমফান এবং ২০২১ সালের মে মাসে যশে পশ্চিমবঙ্গে মারা গিয়েছেন মোট ১৫৩ জন।



