নজরবন্দি ব্যুরোঃ এবার হটস্পট ‘ত্রিপুরার নন্দীগ্রাম’, আর অনেকেই সেখানেই দেখতে পাচ্ছেন উত্থানের ইঙ্গিত। বাংলায় দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলায় আসার সময় গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা নিয়েছিল নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর। এক দশক পরে ২১ এর ভোটের আগেও আশ্চর্য্য সমাপতনে নির্বাচনের পটভূমি ছিল এই নন্দীগ্রামই।
আরও পড়ুনঃ ভ্যাকসিনের নিয়মে ফের বদল, জানুন নতুন নিয়ম
ভোট আবহের শুরুর মুখেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন এই ভোটে এক কালীন সেনাপতি এবং বর্তমান প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর বিপরীতে লড়বেন নন্দীগ্রাম থেকেই। কথা দিয়ে কথা রেখেওছিলেন। নিজের গড় ভবানীপুর ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন নন্দীগ্রাম থেকেই।
গোটা ২১ এর মহারণ আবর্তিত হয়েছে নন্দীগ্রামকে ঘিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছিলেন, ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলবনা গো নন্দীগ্রাম। হেভিওয়েট প্রার্থী, টাফ লড়াই, একে অপরের ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলা ভোট গননা…সব মিলিয়ে গোটা দেশের নজর ছিল সেদিকেই।
ভোটে জেতেননি মমতা, তবে চর্চার কেন্দ্রে বসে সেই বিধানসভা কেন্দ্র। এবার লড়াইয়ের শুরুতে বিপ্লব গড়ের যুদ্ধেও সেই নন্দীগ্রামকেই মধ্যমণি করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই মুহুর্তে দলের তাবড় তাবড় নেতারা সময় ব্যায় করছেন ত্রিপুরা লরাইয়ের প্রস্তুতিতে।

দলনেত্রী সাফ জানিয়েছেন, দেশ বিজয়ের লক্ষ্যে নজরে প্রথম বিপ্লব গড়। দলের তরফ থেকে ‘এবার ত্রিপুরা’ স্লোগান বদলে উঠেছে ‘জিতবে ত্রিপুরা।’ নেতা মন্ত্রীরা এই রাজ্য থেকে সেই রাজ্যে গিয়ে কোন ফাঁক রাখছেন না রণকৌশল তৈরির। এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরাতেও লাইমলাইটে আসছে নন্দীগ্রাম।
সূত্রের খবর ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার সাব্রুমে রয়েছে নন্দীগ্রাম। কোন বিধানসভা কেন্দ্র নয়, এক গ্রাম এবং পঞ্চায়েত,এই নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে তিনটি ওয়ার্ড ছিল। ঘাসফুল শিবিরের তিন জন নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। এসব কথা মাথায় রেখেই এই লড়াইয়ে বাংলার আঁচ জিইয়ে রাখতে নন্দীগ্রামকেই সামনে আনতে চাইছেন সেখানের নেতারা।
বাংলা ভোটের আঁচ বিপ্লব গড়ে, এবার হটস্পট ‘ত্রিপুরার নন্দীগ্রাম’

তাঁরা চাইছেন এবার সে রাজ্যে পা ফেলুন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো। আওয়াজ ওঠান, আমার নাম, তোমার নাম,সিঙ্গুর, ভাঙড়, নন্দীগ্রাম স্লোগান দিয়ে। মমতার গমনে যে ঘাস ফুল শিবিরে এক্সট্রা অক্সিজেন আসবে সেপ্রসঙ্গে নিশ্চিত সকলেই। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরাতে অবশ্যই আসবেন৷ আগেও এসেছেন তিনি। এই রাজ্যের মানুষের সাথে তার অনেক দিনের সম্পর্ক আছে। দলের শীর্ষ নেতারাও পরিদর্শন করবেন রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও মহকুমা। প্রতিটি জেলায় আমরা অফিস তৈরি করতে চাই।”



