‘ভোটচুরি’ ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের মধ্যেই গুজরাতের তিন পুরসভায় জয় পেল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। রাজ্যের রাজধানী গাঁধীনগর-সহ থারা ও ওখা পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন দখল করেছে বিজেপি। গাঁধীনগরে ৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৮টিতে জিতেছে তারা। অন্য দিকে, থারা ও ওখা পুরসভাতেও কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে পদ্মশিবির।
গাঁধীনগর পুরসভার ফলাফলে বিজেপির আসনসংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪১টিতে জয় পেয়েছিল দলটি। এ বার তাদের আসন কমে হয়েছে ৩৮। কংগ্রেসের আসনসংখ্যা বেড়ে ৫ হয়েছে, নির্দল প্রার্থী জিতেছেন একটি ওয়ার্ডে। গত নির্বাচনে একটি আসন পাওয়া আম আদমি পার্টি (AAP) এ বার কোনও ওয়ার্ডেই জয় পায়নি।
রাজ্যের অন্য দুই পুরসভাতেও বিজেপির পক্ষে গিয়েছে ফলাফল। বনাসকাঁঠা জেলার থারা পুরসভার ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি, বাকি পাঁচটি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। দেবভূমি দ্বারকা জেলার ওখা পুরসভার ৩২টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ২৯টিতে। সেখানে কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে তিনটি আসন।
ভোটদানের হারেও তিন পুরসভার মধ্যে পার্থক্য ছিল। গাঁধীনগরে ভোট পড়েছে ৬০ শতাংশের কম। থারা পুরসভায় ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৮১ শতাংশ, আর ওখায় তা ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ। ফলে তিন জায়গায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ভোটারদের অংশগ্রহণের হার এক ছিল না।
ফলাফল ঘোষণার পর গুজরাত বিজেপির সভাপতি জগদীশ বিশ্বকর্মা তিন পুরসভার বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে এই ফল বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির পক্ষে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে গাঁধীনগরে আগের নির্বাচনের তুলনায় বিজেপির আসন কমেছে এবং কংগ্রেসের আসন বেড়েছে—এই পরিবর্তনও ফলাফলের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
জাতীয় স্তরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের আবহে গুজরাতের এই পুরভোটের ফল সামনে এল। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্যের অংশ; এই অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। তিন পুরসভার ফল স্থানীয় স্তরে বিজেপির জয় নিশ্চিত করলেও, তা থেকে গোটা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।




