ককরোচ আন্দোলনে বিদেশি মদতের অভিযোগ দিলীপের, বাংলাদেশকে নিয়ে জল্পনা

দিল্লিতে ককরোচ আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বিদেশি শক্তির মদতের অভিযোগ তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমর্থন ঘিরেও শুরু হয়েছে আলোচনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লিতে ককরোচ আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বিদেশি মদতের অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টার পিছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকা রয়েছে। বিদেশ থেকে অর্থ জোগানের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। যদিও এই আন্দোলনে বাংলাদেশ বা অন্য কোনও বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ আর্থিক মদতের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণের উল্লেখ নেই দেওয়া তথ্যে।

সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই যে ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার পিছনে যে বিদেশি শক্তি রয়েছে, এ কথা তো বারবার বলা হচ্ছে। বিদেশ থেকে মদত দেওয়া হচ্ছে। তবে ফান্ডিংয়ের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে ওরা আরও ভয় পেয়েছে।”

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ককরোচ আন্দোলনের অর্থের উৎস এবং আন্দোলনকে সমর্থন করা বিদেশি ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশকে ঘিরে কেন উঠছে প্রশ্ন?

প্রদত্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ককরোচ আন্দোলনকে সমর্থন করে বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী পোস্ট করেছেন। তাঁদের মধ্যে নাহিদ ইসলামের নামও রয়েছে। এই সমর্থনের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের তরফে আন্দোলনে মদত দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।

তবে কোনও আন্দোলনের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন জানানো এবং সেই আন্দোলনে অর্থ বা সাংগঠনিক সাহায্য দেওয়া এক বিষয় নয়। নাহিদ ইসলাম বা বাংলাদেশের কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে অর্থ জোগানোর অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য কিংবা সরকারি তদন্তের ফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তাই দিলীপ ঘোষের বিদেশি মদতের অভিযোগ এবং বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ ভূমিকা সম্পর্কে দাবি—দুটিকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ককরোচ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জবাবদিহির দাবিতে পথে নেমেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনকারীরা সরব হয়েছেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে আন্দোলনের দাবির প্রেক্ষাপট, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এবং আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির ভূমিকা সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। কোনও একটি গোষ্ঠী বা সংগঠনের বক্তব্যকে গোটা আন্দোলনের অবস্থান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্না কর্মসূচির আগে কয়েকজন সিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার বা আটকের নির্দিষ্ট কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাঁদের পরবর্তী আইনি অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই। সেই কারণে বিষয়গুলি সরকারি নথি বা পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে বিদেশি মদত ও অর্থের জোগানের প্রসঙ্গ উঠে এলেও সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কোন সংস্থার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে অথবা কারা অর্থ গ্রহণ করেছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

কোনও আন্দোলনের পিছনে বিদেশি অর্থের জোগান রয়েছে কি না, তা প্রতিষ্ঠা করতে আর্থিক নথি, সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য, তদন্তের ফল কিংবা নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য সূত্র প্রয়োজন। একইভাবে, অন্য দেশের কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আন্দোলনকে সমর্থন করলেই সেই দেশের সরকার বা প্রশাসন আন্দোলনে অর্থ জোগাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

ফলে আপাতত বিদেশি মদত নিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত। বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ ভূমিকা বা অর্থ জোগানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর