বাংলাদেশের সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (MSF)। সংস্থাটির প্রকাশিত মাসিক পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার পাশাপাশি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও অগস্টের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অগস্টে ১টি থেকে সেপ্টেম্বরে বেড়ে ১০টিতে পৌঁছেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএসএফের রিপোর্টে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের হিংসা, হেফাজতে মৃত্যু, সাংবাদিকদের উপর হামলা, আইনি হয়রানি এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমএসএফ। এর মধ্যে প্রতিমা ভাঙচুরের সংখ্যা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অগস্টে প্রতিমা ভাঙচুরের ১টি ঘটনা নথিভুক্ত করার পর সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা বেড়ে ১০ হয়েছে বলে সংস্থাটির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই বৃদ্ধিকে মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭১টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে এমএসএফ। রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ এবং ১৫ জন মহিলা। একজনের ক্ষেত্রে বয়স বা লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেল হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও অগস্টের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এমএসএফের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে অগস্টে এই সংখ্যা ছিল ৯। সেপ্টেম্বরে হেফাজতে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনাও রিপোর্টে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মব হিংসার ঘটনাও সেপ্টেম্বরের রিপোর্টে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে অন্তত ৬৫টি মব হিংসার ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন।
অগস্টের তুলনায় নিহতের সংখ্যা কমেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হলেও, এই ধরনের হিংসার ধারাবাহিকতাকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখেছে মানবাধিকার সংগঠনটি।
রাজনৈতিক হিংসার ক্ষেত্রেও একাধিক ঘটনার কথা রিপোর্টে বলা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৮৪ জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন বলে এমএসএফের দাবি। এর বাইরে অন্যান্য ধরনের হামলায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
সেপ্টেম্বরে সাংবাদিকদের উপর শারীরিক হামলার ঘটনা কিছুটা কমেছে বলে এমএসএফের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। তবে একই সময়ে সাংবাদিকদের আইনি হয়রানির ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ২৮ জন সাংবাদিক হামলা বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি ৯ জন সাংবাদিক আইনি হয়রানির মুখে পড়েছেন বলে নথিভুক্ত করেছে এমএসএফ।
ডিজিটাল বা সাইবার আইনের আওতায় মামলার সংখ্যাও অগস্টের তুলনায় বেড়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। অগস্টে এমন মামলার সংখ্যা ৩টি থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৮টি হয়েছে। একইভাবে গ্রেপ্তারের সংখ্যাও ৩ থেকে বেড়ে ৮ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএসএফের রিপোর্টে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাতেও বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সংস্থার হিসাবে, অগস্টে নথিভুক্ত এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩২৭। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৩৫৪।
এর মধ্যে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ৫ থেকে বেড়ে ১০টি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ২১ থেকে বেড়ে ৩৬টি হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৪০ থেকে বেড়ে ৫২টি এবং অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ১৪ থেকে বেড়ে ২৭টিতে পৌঁছেছে বলে এমএসএফের পরিসংখ্যান।
সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এমএসএফের এই পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে তাই সংখ্যালঘুদের উপর হামলা থেকে শুরু করে হেফাজতে মৃত্যু, মব হিংসা, সাংবাদিকদের আইনি হয়রানি এবং নারী-শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টের তথ্যগুলি এমএসএফের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত ঘটনার ভিত্তিতে প্রকাশিত; পৃথক সরকারি পরিসংখ্যান বা অন্য কোনও স্বাধীন সংস্থার তথ্য এখানে যাচাই করা হয়নি।



