তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্দির দর্শন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার, ১১ অক্টোবর চেন্নাই মেট্রোর দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের উদ্বোধনে মোদির পাশে ছিলেন বিজয়। তার ঠিক আগের দিনই নিজের বাসভবনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করেছিলেন তিনি। পরপর দু’দিনে দেশের শাসক ও বিরোধী শিবিরের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে বিজয়ের উপস্থিতি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রবিবার চেন্নাইয়ের জলকান্তেশ্বর মন্দিরে (Jalakandeswarar Temple) পুজো দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই কর্মসূচিতেও তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরসূচিতে মন্দির দর্শনের কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে এই উপস্থিতিকে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রমাণ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিজয়ের সঙ্গে মোদির এই যৌথ প্রকাশ্য উপস্থিতি রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
রবিবারের কর্মসূচির মূল পর্ব ছিল চেন্নাই মেট্রো রেল প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের পুণামাল্লি–ভাডাপালানি অংশের উদ্বোধন। প্রায় ৪,৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশে রয়েছে ১১টি স্টেশন। উদ্বোধনের পর মোদি ও বিজয় একসঙ্গে মেট্রোয় সফরও করেন। এই নতুন পরিষেবা চেন্নাইয়ের পশ্চিম প্রান্তের সঙ্গে শহরের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, চেন্নাই সফরে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করার কর্মসূচিও ছিল মোদির। মেট্রো উদ্বোধন এবং মন্দির দর্শন সেই সফরেরই অংশ। ফলে প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি দুই নেতার একসঙ্গে উপস্থিতি রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই আলোচনার পটভূমিতে রয়েছে বিজয়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ। শনিবার, ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ের নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে যান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। সেখানে মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি দুই নেতার বৈঠক হয়। তামিলনাড়ুতে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, একদিকে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক, অন্যদিকে পরদিন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও মন্দির দর্শন—দুই ঘটনাই একই সময়ে সামনে এসেছে। এই ধারাবাহিকতা বিজয়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা বাড়ালেও, শুধু দু’টি সাক্ষাতের ভিত্তিতে তাঁর ভবিষ্যৎ জোট-রাজনীতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগম (TVK)-এর ভূমিকা এবং কংগ্রেসের সঙ্গে তার সম্পর্ক জাতীয় রাজনীতিরও নজরে রয়েছে। তবে মোদির সঙ্গে মন্দির দর্শন বা মেট্রো সফরকে বিজেপির সঙ্গে জোটের ঘোষণা হিসেবে ব্যাখ্যা করার মতো কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে নেই। একইভাবে, রাহুলের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও এককভাবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ইঙ্গিত দেয় না।
এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বিজয় ও তাঁর দলের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ, কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কার্যক্রম এবং কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল, চেন্নাইয়ে পরপর দু’দিনে রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিজয়ের সাক্ষাৎ হয়েছে—আর সেই সময়ের ব্যবধানই ঘটনাদুটিকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।



